চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: দেশীয় ব্যাংকিং খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যাওয়ার পেছনে সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিভিন্ন নীতি ও বক্তব্য ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেছেন ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে আবারও দেশীয় ব্যাংক পরিচালনায় ফিরছেন পুরোনো উদ্যোক্তারা। এতে করে দেশীয় ব্যাংকিং সেক্টরে সুশাসন ফিরে আসবে বলে মত অনেকের। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন — সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর কী তবে ভুল ছিলেন? তাদের মতে— তিনি সুশাসন ফেরাতে গিয়ে বরং বিশৃঙ্খলা তৈরী করেছেন ব্যাংকিং সেক্টরে।
তাদের দাবি, ওই সময় নেওয়া তার কিছু সিদ্ধান্ত এবং প্রকাশ্য মন্তব্য দেশীয় ব্যাংকগুলোর ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে, যার ফলে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও করপোরেট গ্রাহকদের একটি অংশ বিদেশি ব্যাংকের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্বলতার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমন কিছু বক্তব্য ও পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এর ফলে অনেক গ্রাহক দেশীয় ব্যাংকে নতুন আমানত রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে ওঠেন।
ব্যাংক খাতের কয়েকজন বিশ্লেষক বলেন, দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ধরে রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর বার্তা ও পদক্ষেপও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে অনিয়ম ও সুশাসনের সংকটে পড়া দেশের প্রায় ১১টি বেসরকারি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে আবার পুরোনো উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অবস্থার উন্নতি বিবেচনা করে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ১৪ জন পুরোনো উদ্যোক্তা ও পরিচালককে পুনর্নিয়োগ দিয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে চলছিল ব্যাংকটি। ১৪ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদের তিনজন কেডিএস গ্রুপের। তারা হলেন- কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ ও কেডিএস টেক্সটাইলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
অন্য পরিচালকরা হলেন- ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা- ৭ থেকে জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করা এনায়েত উল্লা, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী এবং কেওয়াই স্টীল মিলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।
এদিকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমানের কানাডায় বাড়ি থাকার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একপ্রকার গুঞ্জন তৈরী হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রকাশ্য তালিকায় তার কানাডায় বাড়ি বা সম্পদ থাকার সুস্পষ্ট কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি চাটগাঁ নিউজকে বলেন, আমার যদি কানাডায় বাড়ি থাকতো তবে আমার ঘনঘন কানাডা যাওয়ার প্রয়োজন হতো। আমার পাসপোর্ট চেক করলে এর সত্যতা পাবেন। আমি জীবনে কেবল দুইবার কানাডা গিয়েছিলাম। একবার ব্যবসায়ীক কাজে আরেকবার পারিবারিক কাজে।
বিস্তারিত সিপ্লাস টিভিতে……………………….
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





