চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের সুস্পষ্ট ঘোষণার দাবিতে প্রেসক্লাব চত্বরে প্রতীকী গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রামের বন্দর রক্ষা কমিটি।
শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন।
অনশন কর্মসূচি শেষে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার আগামী ২২ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টায় চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত মশাল মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে আবারও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দাবিতে জনগণের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরা হবে।
গণঅনশন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু। বিকেল ৩টায় বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন অংশগ্রহণকারীদের শরবত পান করিয়ে প্রতীকী গণঅনশন ভঙ্গ করান।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সিবিএর সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বিশিষ্ট কলামিস্ট কানাই দাসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা।
গণঅনশন ভঙ্গের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি বন্দর নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই, এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনগণের মতামত, বিশেষজ্ঞদের অভিমত এবং সংসদীয় আলোচনার প্রয়োজন ছিল। জনগণকে অন্ধকারে রেখে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে হলে নিজস্ব জনবল, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। এতে বরং ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। জনগণের শান্তিপূর্ণ এই প্রতিবাদের প্রতি সরকার সম্মান জানাক। অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিক।
সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, জনগণের সম্পদ বিদেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য শুভ নয়।’
টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকার অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের ঘোষণা না দিলে শ্রমিক সংগঠনগুলো বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সিবিএর সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, লাভজনক এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বন্দরের উন্নয়নের প্রয়োজন হলে সরকার আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও জনবল উন্নয়নে বিনিয়োগ করুক।
বক্তারা আরও বলেন, বন্দর রক্ষা কমিটির এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি দেশের স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, জনগণের ন্যায়সংগত দাবি মেনে নিয়ে ইজারার প্রক্রিয়া বন্ধের ঘোষণা দিন। অন্যথায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশ শেষে বন্দর রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





