চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে রোববার (২৬ জুলাই) এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, এদিন দুদকের পক্ষ থেকে চারজন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত মামলায় মোট ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬), তাঁর স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) এবং রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬)।
এছাড়া ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর, সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ একাধিক সাবেক পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউসিবিএলের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা এবং জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অভিযোগপত্রে ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন নেওয়া হয়। পরে ওই অর্থ সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মাধ্যমে উত্তোলন করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন এবং সেই অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পদ কেনেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনা সংঘটিত হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ জাবেদ, তাঁর স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার দুই আসামি—ইউসিবিএলের সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং জাবেদের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাঁদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে নতুন সাতজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্রে এ মামলায় মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





