চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের সমন্বিত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগ বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
এডিবির দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইংমিং ইয়াং বলেন, ‘আইজিএনডি বাংলাদেশের নিজস্ব সরকার-নেতৃত্বাধীন ও জাতীয়ভাবে পরিচালিত একটি উদ্যোগ এবং এডিবি দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এ উদ্যোগকে সহায়তা করতে পেরে গর্বিত।’
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের মোহনা বলরুমে আয়োজিত আইজিএনডি বিষয়ক জাতীয় ডিসেমিনেশন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইংমিং ইয়াং বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও অন্যতম গতিশীল অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে দেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামের উন্নয়ন কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।’
স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস ও মানব উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির এই সময়ে উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে আরও দক্ষ লজিস্টিকস ব্যবস্থা, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শক্তিশালী সংযোগ অবকাঠামো এবং বাজার ও অর্থনৈতিক সুযোগের উন্নত সমন্বয় প্রয়োজন। আইজিএনডি দেশের প্রধান প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র, কাঁচামাল ও পণ্যের বাজারগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদারে একটি কৌশলগত কাঠামো প্রদান করছে। এর মাধ্যমে সংযোগকে উচ্চতর উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মানসম্মত কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।’
ইংমিং ইয়াং আরও বলেন, ‘অবকাঠামো, লজিস্টিকস, জ্বালানি, নগর উন্নয়ন ও মানবসম্পদে বিনিয়োগ সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রগুলোতেও ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে চাই।’
চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই শহর ও এর আশপাশের অঞ্চল রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চলতি বছরের শুরুতে সরকারের অনুমোদনের পর আইজিএনডিকে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে একীভূত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ধারণা থেকে বাস্তবায়নের দিকে দ্রুত অগ্রগতির প্রমাণ।
এডিবির পক্ষ থেকে দেওয়া সহায়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত মে মাসে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইজিএনডি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এবং আগামী পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও আইজিএনডির রূপান্তরমূলক সক্ষমতার প্রতি এডিবির আস্থার প্রতিফলন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইজিএনডির প্রাথমিক বাস্তবায়ন পদক্ষেপ হিসেবে যমুনা-ঢাকা নদী-ক্যানাল সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ (জেডিআই) গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জলপথ সংযোগ পুনরুদ্ধার, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান, জীবিকা ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়তা মিলবে।’
অর্থায়ন, জ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইজিএনডি বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপকে আরও সংযুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অর্থায়ন, জ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে এডিবি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকবে।’
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





