চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গাছের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় আহত ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
আহত হওয়ার পাঁচদিন পর রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আবদুল মান্নান সওদাগর স্থানীয় কবির আহমদের ছেলে। উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের জানি পাথর এলাকায় একটি মুদি দোকান চালাতেন তিনি।
স্থানীয়রা বলেছেন, কিছুদিন আগে জানি পাথর এলাকার একটি পুকুরে গাছ হেলে পড়ে। স্থানীয়রা বৈঠকে বসে ওই গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত দেয়। পরে গাছের মালিকের কাছ থেকে ওই গাছটি কিনে নেয় নিহত আবদুল মান্নান সওদাগেরর ভাই লোকমান। বৃহস্পতিবার তারা ওই গাছটি কাটতে গেলে তা নিয়ে আবদুল মান্নান সওদাগর ও তার ভাই লোকমানের সঙ্গে তাদের জেঠাতো ভাই শাহজাহানের ঝগড়া হয়। পরে ঝগড়া মিটে গেলে আবদুল মান্নান সওদাগর জানি পাথর বাজারে নিজের দোকানে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বাজারে গিয়ে শাহজাহান একটি কাঠের টুকরা দিয়ে আবদুল মান্নান সওদাগরের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুত আহত হন।
নিহতের ভাই লোকমান সওদাগর জানান, গত ২৫ জুন গাছের মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ওই সালিশে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। সালিশের সিদ্ধান্ত এক পক্ষের অনুকূলে না যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তার ভাই আবদুল মান্নানের ওপর গাছের টুকরো দিয়ে হামলা চালায়।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে রাউজানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। লোকমান সওদাগর এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, হলদিয়া এলাকায় কয়েকদিন আগে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত আবদুল মান্নান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন/এসএ





