নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের মাতারবাড়ীর দুটি ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। এর প্রভাবে শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি খাতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ) মো. রফিক খান জানান, এতদিন তারা দৈনিক ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছিলেন। বুধবার থেকে সরবরাহ ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাবে।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের ইস্পাত কারখানাসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
মোস্তফা হাকিম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ সরোয়ার আলম বলেন, তাদের এইচএম স্টিল ও গোল্ডেন ইস্পাত কারখানায় গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। যদিও এখনো বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়নি, তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ইস্পাত শিল্পে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ কমে গেলে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন সম্ভব হয় না। চুল্লি প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় নিতে বেশি সময় লাগে। অথচ গ্যাসের ব্যবহার ও বিল পরিশোধ—দুটিই আগের মতোই থাকে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিত গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক, যাত্রী ও স্টেশন মালিকরা।
গত কয়েকদিন ধরে বেশিরভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশনেই দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে ধীরগতিতে সরবরাহ চলছে, আবার কোথাও সংকটের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে কার্যক্রম। গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকরা। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে দৈনিক আয়।
সিএনজি স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে যানবাহনের চাপ ও অপেক্ষার সময়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সিএনজি স্টেশনগুলোতে একটু লাইন আছে। এটা খুবই সাময়িক। লাইন মেরামতের কাজ চলছে, দু–তিন দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।
তিনি জানান, বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে গ্যাসের চাপ।
এদিকে, সংকটের প্রভাব শুধু সিএনজি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ নয়। নগরের অনেক আবাসিক এলাকাতেও দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





