উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের ফলে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি রোহিঙ্গা পরিবারের বসতঘর এবং একটি লার্নিং সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩-এর সি/৪ ব্লকে এ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি অতিরিক্ত আর্দ্র ও দুর্বল হয়ে পড়ায় হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে রোহিঙ্গা আব্দুল হামিদের বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া উন্নয়ন সংস্থা কোডেক পরিচালিত একটি লার্নিং সেন্টারও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর ক্যাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন। পাশাপাশি পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পালংখালী অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোসাইন বলেন, চলমান বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ আরও জোরদার করা জরুরি।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ক্যাম্পে পাহাড়ধসের একটি ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে টানা ভারী বর্ষণের কারণে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড়ধসে অন্তত ১৭ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে ক্যাম্পজুড়ে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/মোস্তফা/এমকেএন





