আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তীব্র সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ‘এক্স’এ দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, রিয়াদে আরামকোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে একটি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন— হামলাগুলো ছিল ‘সুনির্দিষ্ট ও সরাসরি’ এবং এর ফলে ওই স্থাপনায় ‘আগুন ধরে যায়’।
সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো হামলার কথা জানায়নি; এমনকি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো-ও আগুনের কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।
শনিবার রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী ও আগুন উঠতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের তুমুল লড়াই চলছে। ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১ হাজার ৫৪০ হুতি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।
ইয়েমেন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রণক্ষেত্রে হুতিদের অবস্থান, রসদপত্র, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে ৪৭৪টি অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে তাইজ প্রদেশেই সবচেয়ে বেশি হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি বলেন, এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে।
ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া এ সংঘাতের অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে তাইজ।
সরকারি বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে এ প্রদেশের বানি বাকারু, মাকবানাহ, আল-আকরুদ, তাইজ শহরের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রবেশপথসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার ভোরে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্নাইপার ব্যবহার করে হুতি বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯৭টি ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী অভিযান’ চালিয়েছে। এসব অভিযান ‘তোর আল-বাহা’ ফ্রন্ট এবং ‘তাইজ’ অক্ষপথে চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানিয়েছেন, এসব হামলায় ‘কমপক্ষে ২৬০ জন হুতি যোদ্ধাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং ৪৪টি সামরিক যান ধ্বংস বা অকেজো করে দেওয়া হয়েছে’।
এদিকে সংঘাতের কারণে আরও বেশি সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। দেশটির বাস্তুচ্যুত মানুষের ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক নির্বাহী ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে শুরু হওয়া এ বৈরিতার মধ্যে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৯৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংস্থাটি গত ১ অক্টোবর জানায়, বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে তাইজ প্রদেশ। এখানকার ১৫টি শহরজুড়ে বর্তমানে ১৩ হাজার ৯২৫টি পরিবারের ৯৭ হাজার ৫২৯ সদস্য অবস্থান করছেন।
২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নিলে এবং উত্তর ইয়েমেনের বেশির ভাগ অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে দেশটিতে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ২০২২ সালের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি জুলাই মাসে অকার্যকর হয়ে পড়ার পর থেকে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুতিরা মোখা বন্দর শহর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। এই প্রণালি বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






