আমাদের ইরানে যাওয়া উচিত হয়নি: ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলা ও সামরিক অভিযান চালানো উচিত হয়নি বলে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যদি অভিযান পরিচালনা না করত, তাহলে ইরান এতদিনে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে ফেলত।

শনিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে ২০০৩ সালে মার্কিন বাহিনীর ইরাকে সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।

শনিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমাদের ইরানে যাওয়া উচিত হয়নি, তবে ইরানের সক্ষমতা আছে। যদি ৯ মাস আগে আমরা তাদের বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে আঘাত না করতাম, তাহলে এতদিনে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে ফেলত আমাদের সামনে সম্পূর্ন ভিন্ন একটি বাস্তবতা হাজির হতো। হয়তো ইসরায়েল থাকত না, কিংবা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যই থাকত না। তারপর তারা কোথায় যেতো?”

এ প্রসঙ্গে দু’দশকেরও বেশি সময় আগে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনা স্মরণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরাকের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র আছে— অভিযোগ তুলে ইরানের প্রতিবেশী এই দেশটিতে ২০০৩ সালে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ জেআর। সে সময় ইরাকের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সাদ্দাম হোসেন।

তবে পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে যে প্রেসিডেন্ট বুশের এই দাবি ভুল ছিল। ইরাকে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

“আপনি ইরাকের দিকে তাকান। আমরা সেখানে খুব খারাপ কিছু করেছিলাম। ইরাকে আমরা যা করেছিলাম, তা ছিল চরম বোকামির একটি কাজ। সেখানে শুরুতেই হাশরা করা আমাদের উচিত হয়নি।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ ধরে টানাপোড়েন চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। ওয়াশিংটনের দাবি, শান্তিপূর্ন পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। তবে ইরান এই দাবি সবসময় প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

২০২৫ সালের জুনের প্রথম দিকে জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা আইএইএ এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে এবং এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ। আইএইএ-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান বিশুদ্ধকরণ অব্যাহত রেখেছে এবং যদি এই বিশুদ্ধতার মান ৬০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে এ ইউরেনিয়াম দিয়ে অনায়াসে পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব।

আইএইএ এই প্রতিবেদন প্রকাশের এক সপ্তাহ পর ইরানে যৌথ বিমান অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো। ১২ দিন ধরে চলা সেই অভিযানে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটির ইউরেনিয়ামের মজুত দখল করা সম্ভব হয়নি।

একই ইস্যু, অর্থাৎ সেই পরমাণু প্রকল্প নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের ইরানে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাতের পর ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে মার্কিন বাহিনী।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন বাহিনী যদি চাইত— তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি ‘শেষ’ করে দিতে পারত।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী শাসকদের তুলনায় ‘উদার’ এবং ‘অবৈরীসুলভ’। এ কারণে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ‘ছাড় দেওয়া হয়েছে’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

“আসলে যুদ্ধে প্রায়েই ভুল হয়। জনগণ জেনে অবাক হবেন যে অনেক সময় এমন ভুল হয় যে সবাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং যে দেশের সঙ্গে যুদ্ধ হচ্ছে, সেটি ৪০ বছর পিছিয়ে যায়।”

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top