আনোয়ারা প্রতিনিধি: তীব্র গরমে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আট মাস থেকে আট বছর বয়সী শিশুরা ছটফট করছে। শিশুদের গরমের কষ্ট থেকে স্বস্তি দিতে মায়েরা কাগজ কিংবা কাপড়ের পাখা দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছেন। তবে প্রচণ্ড গরমে সেই বাতাসও যেন শরীরে লাগছে না।
গরমের যন্ত্রণায় কেউ কেউ হাতে স্যালাইনের ক্যানুলা নিয়েই বেড ছেড়ে হাসপাতালের বারান্দা কিংবা সিঁড়িতে বসে থাকছেন। আবার কেউ অসুস্থ শরীর নিয়েও স্বস্তির আশায় বাইরে কিংবা ছাদে হাঁটাহাঁটি করছেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও জেনারেটর চালু না করায় পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। একই সঙ্গে তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি জেনারেটর রয়েছে। তবে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত তেলের ব্যবস্থা না থাকায় নিয়মিত এগুলো চালানো হয় না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, অন্ধকারের মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ ও নারী রোগীসহ তাদের স্বজনরা বেড ও মেঝেতে কাতরাচ্ছেন। গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেকে কাগজ কিংবা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। আবার কেউ কেউ শিশুদের শরীর পানি দিয়ে মুছে দিচ্ছেন।
এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শরীরের রোগ ভালো করতে এসে উল্টো গরমের যন্ত্রণায় রোগী হয়ে যেতে হচ্ছে। রোগী দেখতে এসেও গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার অবস্থা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর আছে, কিন্তু তেলের অভাবে সেটিও চালানো হয় না। ছোট ছোট শিশুদের কষ্ট আরও বেশি হচ্ছে।
পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে আসা জোসনা আক্তার বলেন, বাচ্চার ডায়রিয়া হওয়ায় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসেছি। ডাক্তার দেখানোর পর শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করাই। সেখানে গিয়ে দেখি বিদ্যুৎ নেই, জেনারেটরও চলছে না। পুরো হাসপাতাল অন্ধকার। এর মধ্যে তীব্র গরমে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। সরকারি সেবা কেন্দ্রে এমন অবস্থা হলে আমরা কোথায় যাব?
হাতে স্যালাইন লাগানো অবস্থায় হাসপাতালের সিঁড়ির পাশে বসে থাকা হোসেন নামে এক ডায়রিয়া রোগী বলেন, কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়ায় পুরো শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছি। ডাক্তার স্যালাইন দিয়েছেন। কিন্তু গরমের কারণে বেডে আরাম করে থাকতে পারছি না। তাই স্যালাইন হাতে নিয়েই সিঁড়ির পাশে এসে বসেছি। সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন অবস্থা খুবই দুঃখজনক।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, তীব্র গরমের কারণে গত কয়েকদিন ধরে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর ও সর্দি-কাশির মতো রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ফলে এসব রোগীর চাপও বেড়েছে হাসপাতালে।
এদিকে জেনারেটরের তেলের সংকট ছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক নিয়মিত না আসা, চারপাশে অপরিচ্ছন্নতা ও দুর্গন্ধ এবং কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি জেনারেটর রয়েছে। তবে সরকারিভাবে তেলের ব্যবস্থা না থাকায় নিজেদের অর্থায়নে কিছু তেলের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জেনারেটর চালু করে চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করা হয়। বাকি সময় জেনারেটর বন্ধ রাখতে হয়।
চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন





