আড়াই বছরে ৬ বার বন্ধের রেকর্ড গড়ে পুরোদমে উৎপাদনে সিইউএফএল

আনোয়ারা প্রতিনিধি: টানা ছয় মাস বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদনে ফিরেছে রাষ্ট্রায়ত্ত চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। যদিও গেল আড়াই বছরে ৬ বার বন্ধ হওয়ার রেকর্ড গড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর কারখানাটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও যন্ত্রপাতিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদনে ফিরতে কিছুটা সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত ত্রুটি কাটিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার পুরোদমে উৎপাদন  শুরু করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিইউএফএল সার কারখানায় দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকলে কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয় না। গ্যাসের চাপ কমে গেলে বা সরবরাহ বন্ধ হলে উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনে সক্ষম কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস-সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। এ ছাড়া নানা কারণে এর উৎপাদনসক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র পাঁচ দিন চালু ছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ হওয়ার পর সে বছরের অক্টোবরে আবার চালু হয়। এরপর ২০২৫ সালেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বারবার কারখানাটি চালু ও বন্ধ হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ মার্চ থেকে গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ২০২৪ সালের পর থেকে এ নিয়ে সর্বমোট ৬ বার প্রতিষ্ঠানটিতে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে আজ কারখানাটি উৎপাদনে ফেরায় সিইউএফএলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার কার্যক্রম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, উৎপাদন শুরুর মধ্য দিয়ে তা অনেকটাই কেটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন ইউনিট চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর ধাপে ধাপে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। এরপর ইউরিয়া প্ল্যান্টের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সচল করে উৎপাদনে ফেরার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেয়। কারখানার প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করে এসব ত্রুটি সারিয়ে তুলেন।

উৎপাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) উত্তম চৌধুরী বলেন, আজ (মঙ্গলবার) সকালে আমাদের উৎপাদন প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে আমরা গ্যাস পেলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদনে ফিরতে পারিনি। এরপর একে একে সব যন্ত্রপাতি সচল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করছি আগামীকালের মধ্যে কারখানাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান জানান, প্রায় ছয় মাস পর তারা উৎপাদনে ফিরেছেন। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে নিয়মিত উৎপাদনের মাধ্যমে তা অল্প সময়ের মধ্যেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/জেএইচ

Scroll to Top