সাতকানিয়ায় বন্যার রাতে কবরস্থানের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ!

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি পারিবারিক কবরস্থানের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে। যিনি আওয়ামী ঘনিষ্ট একজন ইউপি মেম্বার বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাতে পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গা গ্রামের মোসলেম মুন্সি বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্ত মো. মোরশেদুল আলম জামায়াতপন্থী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের একজন সদস্য এবং উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী মিজানুল ইসলামের অভিযোগ, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। মানুষ যখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ব্যস্ত, তখন রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তাদের পারিবারিক কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে দেয়। তিনি দাবি করেন, নলুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ফখরুদ্দিন মিন্টুর অনুসারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যে গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন স্থানীয় মেম্বার মো. মোরশেদুল আলম।

জানা গেছে, ফখরুদ্দিন মিন্টু বিদেশে পলাতক থাকলেও তার নির্দেশনায় তার বড় ভাই কামাল উদ্দিন ও ভাগিনা মোরশেদ মেম্বারের নেতৃত্বে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে সন্ত্রাসী গ্রুপটি। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, মাদক বেচাকেনা ও প্রভাব বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা মোরশেদ আলম রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতপন্থী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এলাকায় প্রভাব বজায় রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী এলাকায় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

জানতে চাইলে মো. মোরশেদুল আলম চাটগাঁ নিউজকে জানান, কবরস্থানের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দেয়াল দেয়ালের জায়গায় রয়েছে। কেবল কয়েকটি টাইলস খুলে পড়েছে। এটি কিভাবে ভাঙচুর হয় আমার জানা নেই! আপনারা সরজমিনে এসে দেখতে পারেন।

এদিকে ভুক্তভোগী মিজানুল ইসলামের দাবি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর আগে তার ওপর হামলা হয়েছে এবং বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাও চুরি করা হয়েছে। সর্বশেষ বন্যার সুযোগে রাতের আঁধারে পারিবারিক কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

তিনি চাটগাঁ নিউজকে বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।

এদিকে এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ জুন সাতকানিয়া থানায় ১৩০২ নম্বর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট বাবার কবর জিয়ারত করতে গেলে মোরশেদ আলম তার ওপর ধারালো দা দিয়ে হামলা করেন। হামলায় তার বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি দা উদ্ধার করে বলেও জানান মিজানুল ইসলাম।

তিনি আরো দাবি করেন, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি রাতে তার বাড়ির চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

এরই প্রেক্ষিতে গত ২৮ মে ঈদের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে তাকে লক্ষ্য করে অস্ত্র তাক করা হয়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় মোরশেদ আলমের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং তার সহযোগী শহিদের হাতে ধারালো কিরিচ ছিল। এ ঘটনাতেও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় যার এসডিআর নাম্বার ১৪৫৫।

এসব বিষয়ে মো. মোরশেদুল আলম বলেন, আমি কখনো এই ধরণের কাজে যুক্ত ছিলাম না। মিজানুল সাহেবের সঙ্গে আমার কোনো রকমের শত্রুতা কিংবা বিরোধ নেই। তিনি কেন আমার বিরুদ্ধে এসব বলছেন আমি জানি না।

সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, কবরস্থানের দেয়াল ভাঙচুরের বিষয়ে জেনেছি। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির কারণে পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top