রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: অতিবৃষ্টিতে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এসময় তিনি পাহাড়খেকোদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করব’!
এর আগে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন, দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে দ্রুত পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান।
পরিদর্শনকালে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘যে পরিস্থিতি আমরা দেখতে পাচ্ছি, এটি শুধু রাঙ্গুনিয়া নয়; রাউজান, ফটিকছড়িসহ বেশ কিছু এলাকায় ফ্ল্যাশ ফ্লাড হিসেবে দেখা দিয়েছে। আগামী দুই-তিন দিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তবে আশার কথা হলো, আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।’
ত্রাণ সহায়তা ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করছেন, সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।
পাহাড়ধসে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যেসকল পাহাড় ধসে পড়েছে, সেখানে এখনো অনেক বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ (ক্রিটিক্যাল কন্ডিশন) অবস্থায় আছে। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে ইউএনও মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রেখেছি। মানুষ যদি অন্তত আপাতত সেখানে গিয়ে আশ্রয় নেয়, তবে আমাদের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমে।’
পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বাস্তবমুখী সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও আশ্রয়ণ প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, মানুষ নিজের এলাকা বা ইউনিয়ন ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চায় না। তারা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নিজেদের বাড়িতেই থাকতে পছন্দ করে।’
সবশেষে অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে সৃষ্ট এই বিপর্যয় ও তা রোধে করণীয় সম্পর্কে কড়া হুঁশিয়ারি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চার মাস আগে আমি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছি। ভোটের আগে আমি কথা দিয়েছিলাম এলাকার অবৈধ বালুর ব্যবসা বন্ধ করব, আর আমি সেই বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি। এখন আমাদের এই পাহাড় কাটাও বন্ধ করতে হবে।’
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





