চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামে মৌসুমের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের পর নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি এখনই কাটছে না। নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অন্তত আরও এক সপ্তাহ চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম। এ সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর আর্দ্র বাতাস নিয়ে আসে। সেই বাতাস ওপরে উঠে মেঘ তৈরি করে। এর সঙ্গে সম্প্রতি তৈরি হওয়া মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়েছে। যদিও নিম্নচাপটি এখন ভারতের ঝাড়খন্ড ও ওডিশা এলাকায় সরে গেছে, তবু সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী অন্তত এক সপ্তাহ বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসেও একই চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণও।
বাড়ছে পাহাড়ধসের শঙ্কা
টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাহাড়ধস নিয়ে। ভারী বর্ষণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও উপকূলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। নগরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
গত সোমবার সকাল থেকে আকবর শাহ, বিজয়নগর, শান্তিনগর, বেলতলীঘোনা, টাংকির পাহাড়, মতিঝরনা, পাহাড়িকা, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, উত্তর হালিশহর সমুদ্রপাড় ও বাকলিয়া নদীতীরসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এর আগের রাতেও একই ধরনের সতর্কতামূলক প্রচার চালানো হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। ছয়জন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে প্রচার অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা কেন্দ্র জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায় ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এই বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো।
রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সোমবার অতি ভারি বর্ষণের রূপ নেয়। সোমবার দিনভর বৃষ্টির পর রাতেও চলে মুষলধারে। সেদিন সন্ধ্যার পর নগরীর দুয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাতভর টানা ভারি বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকালেও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, হালিশহর কে ও এল ব্লক, রামপুর, তিন পোলের মাথা, বাটালি রোড, আরাকান সড়কের মৌলভী পুকুর পাড়, সিঅ্যান্ডবি এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





