চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে গ্রিন ইয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ায় এখন সরকারি সহায়তা পেলে বাংলাদেশ আবার নাম্বার ওয়ান হবে বলে মন্তব্য করেছেন পিএইচপির পরিচালক জহিরুল ইসলাম।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সীতাকুণ্ডের শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মাধ্যমে জাহাজভাঙা শিল্পে আমূল পরিবর্তনের নায়ক তরুণ উদ্যোক্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, একসময় সীতাকুণ্ড উপকূলে শতাধিক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ছিল। নানামুখী চাপ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও অটোমেশনের অভাব এবং অর্থায়নের উৎস না পাওয়ায় অনেক ইয়ার্ড বন্ধ হয়ে গেছে।
আশার কথা হচ্ছে এখন অনেক শিপ ইয়ার্ড উন্নতবিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রযুক্তি, মেধা ও যন্ত্রপাতির সমন্বয়ের মাধ্যমে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। কয়েক বছর আগেও আমরা বিশ্বে নাম্বার ওয়ানে ছিলাম শিপ রিসাইক্লিংয়ে।
তিনি আরো বলেন, গত মাসের প্রথম সপ্তাহে জাহাজভাঙা শিল্পের মেজর সমস্যাগুলো মন্ত্রী মহোদয়কে জানিয়েছি। এর মধ্যে শিপ রিসাইক্লিং যখন কোনো ডেভেলপমেন্ট করেনি তখন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে আমরা অরেঞ্জ ক্যাটাগরিতে ছিলাম। এখন যখন গ্রিন ইয়ার্ড করলাম, ১০০-১৫০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ করেছি কিছু দিন আগে আমাদের হঠাৎ করে রেড ক্যাটাগরিতে নিয়ে গেল।
কেন এমন হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন সাবেক উপদেষ্টা ২০-৩০ বছর ধরে জাহাজভাঙা শিল্পের বিরুদ্ধে ছিলেন। তিনি যখন উপদেষ্ট হলেন আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছে। রেড ক্যাটাগরিতে নেওয়ায় প্রথমত আমাদের সম্মান নষ্ট হলো। বিশ্বের সেরা ইয়ার্ডগুলো যে বাংলাদেশে আছে সেখানে আমাদের সরকার আমাদের রেড ক্যাটাগরিতে নিয়ে গেল। আমাদের শিল্পের উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন দরকার, অনেক ইয়ার্ড বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলোতে কীভাবে রিফাইন্যান্সিং করা যায় ডেভেলপ করার জন্য সেই বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
২০১১ সালে শিপ রিসাইক্লিং বিধিমালা হয়েছিল সেটির আধুনিকায়নের ব্যাপারে কথা হয়েছে। শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের সঙ্গে পরিবেশ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় যাতে ভালো হয় সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। মন্ত্রী মহোদয় আন্তরিক ছিলেন। তিনি বলেছেন, যা করার করবে যাতে এ শিল্প বিশ্বে আবারও এক নম্বরে যেতে পারে।
মন্ত্রী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ, আরব শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং লিমিটেড, এসএন করপোরেশন পরিদর্শন করেন।
এ সময় শিল্পমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে আজকের দিনের স্টোরি ভিন্ন। আরও যারা ব্যবসা করতে চায় তাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেব, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেব। যারা জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের ব্যবসা করবেন তাদের কমপ্লায়েন্স হতে হবে, গ্রিন লাইসেন্স নিতে হবে। সারা বিশ্বে যত জাহাজ রিসাইক্লিং হতো তার প্রায় অর্ধেক নিজেরাই করেছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের এ অবস্থান থেকে সাময়িককালের জন্য আমরা বিচ্যুত হয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমাদের ১ নম্বর অবস্থান দ্রুত ফিরিয়ে আনব। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, বিএসবিআরএ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






