চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হতে ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা কর আদায় নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ফলে চসিকের ইতিহাসে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে টাইগারপাসের চসিক সম্মেলন কক্ষে বন্দরের কর্মকর্তারা মেয়রের কাছে হোল্ডিং ট্যাক্সের চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের বকেয়া কর আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ, ধারাবাহিক আলোচনা এবং প্রশাসনিক তৎপরতার মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়েছে।
এর ফলে চসিকের আর্থিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং নগরের অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চসিকের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বৃহৎ কর আদায়ের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজস্ব বৃদ্ধি, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগর উন্নয়নে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এই কর আদায় তারই একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
এসময় মেয়র জানান— এটি শুধু একটি রাজস্ব আদায় নয়, বরং চট্টগ্রামবাসীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দর অত্যন্ত কম হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন এবং আইন অনুযায়ী ন্যায্য কর আদায়ের উদ্যোগ নেন।
তিনি আরো জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে উভয় প্রতিষ্ঠানের তিনজন করে মোট ছয়জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সমন্বয়ে যৌথ মূল্যায়ন (জয়েন্ট অ্যাসেসমেন্ট) পরিচালিত হয়। এতে প্রায় এক কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট স্থাপনার মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। যৌথ মূল্যায়নে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করায় এটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সিটি কর্পোরেশন বন্দরের কাছ থেকে কোনো ধরনের কম্পেনসেশন চার্জ গ্রহণ করে না। অথচ বন্দরের ৪০ থেকে ৫০ টন ধারণক্ষমতার ভারী যানবাহন প্রতিনিয়ত চসিকের নির্মিত সড়ক ব্যবহার করছে। ফলে প্রতিবছর শুধু সড়ক সংস্কারেই অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই বন্দরের কাছে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং আইনি ভিত্তিতে নির্ধারিত ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্সই দাবি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বন্দরের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা হলেও সিটি কর্পোরেশন আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত করের ৭৫ শতাংশ জমা দিতে হয়। সেই বিধান অনুসারেই আজ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার চেক সিটি কর্পোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ অর্থও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সিটি কর্পোরেশন পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ, কর কর্মকর্তা এ. কে. এম. সালাহউদ্দিনসহ আরো অনেকে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






