বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভালুকিয়া এলাকায় আবারও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কলাবাগানে কাজ করার সময় মাইন বিস্ফোরণে মো. শফি আলম (৩০) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর হাতুরানী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৪১ নম্বর মেইন পিলার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং হাতুরানী বিওপি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণে একটি কলাবাগানে কাজ করছিলেন শফি আলম। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে একটি ডাম্পারযোগে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত শফি আলম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রেজু আমতলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. হালু মিয়ার ছেলে।
ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, ভালুকিয়া এলাকায় বিস্ফোরণের একটি ঘটনার তথ্য আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থল সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আহত ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভালুকিয়া, তুমব্রু ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কা বিরাজ করছে। জীবিকার তাগিদে কৃষিজমি ও বাগানে কাজ করতে গেলেও আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের।
একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কোথায় মাইন পুঁতে রাখা আছে, তা কেউ জানে না। তাই নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা জরুরি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে একই এলাকার সীমান্তসংলগ্ন স্থানে পরপর দুটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন স্থানীয় আদিবাসী নিহত হন। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মাইন বিস্ফোরণে একজন আহত হওয়ায় সীমান্ত জনপদে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
চাটগাঁ নিউজ/ইলিয়াস/এমকেএন






