জাবেদসহ ৩৬ আসামির মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। মামলাটিতে আরও সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় এ পর্যন্ত মোট ২৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এসব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬), তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) এবং রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬)।

এ ছাড়া ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর (৭৭), সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী (৬৪), সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ (৫৫), আফরোজা জামান (৪৮), সৈয়দ কামরুজ্জামান (৬১), মো. শাহ আলম (৬২), মো. জোনাইদ শফিক (৬৪), অপরূপ চৌধুরী (৬৫), তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬), ইউনুছ আহমদ (৭৯), হাজী আবু কালাম (৭৯) ও নুরুল ইসলাম চৌধুরী (৬২) আসামি রয়েছেন।

ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ (৫১), আবদুল হামিদ চৌধুরী (৫০), আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান (৪৬), মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন (৬২) ও বজল আহমেদ বাবুল (৫৬)।

জাবেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী (৫১), মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম (৫০), আব্দুল আজিজ (৩৯), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৪), মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী (৪৮), ইয়াছিনুর রহমান (৪৩), ইউছুফ চৌধুরী (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম (৪৫)। এছাড়া আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল (৫১), প্রদীপ কুমার বিশ্বাস (৫১), মো. জাহিদ (৪৫), মো. শহীদ (৪৯), মো. সুমন (৩৯), ইলিয়াস তালুকদার (৫০) ও ওসমান তালুকদার (৪৮) মামলার আসামি।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, মঙ্গলবার দুদকের পক্ষ থেকে সাতজন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ভিশন ট্রেডিং নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক দেখিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করানো হয়। পরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তার কর্মচারীদের মাধ্যমে ওই অর্থ উত্তোলন করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন এবং সেখানে সম্পত্তি ক্রয় করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব ঘটনা সংঘটিত হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্তে আরও সাতজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

তবে মামলার প্রাথমিক ৩১ আসামির মধ্যে দুজন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন ইউসিবিএলের সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম। মামলাটিতে মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top