বর্ষাতেই জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সুফল মিলবে জানালেন সিডিএ চেয়ারম্যান

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চলতি বর্ষা মৌসুম থেকেই চট্টগ্রাম নগরবাসী জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। তবে প্রকল্পের সফলতা ধরে রাখতে খাল ও নালায় বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

চেয়ারম্যান জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় চিহ্নিত ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ ইতিমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৬টি খালের কাজের অগ্রগতি ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

শহরকে একটি পরিকল্পিত ও নান্দনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, সংস্থাকে দুর্নীতি, অবৈধ দখল ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতা থেকে মুক্ত করে একটি গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা ছিল, যার ফলে অত্যাধুনিক মার্কেট নির্মিত হলেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের টোল প্রদানে অনীহা প্রকাশ করছেন। তিনি এই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, এর সুফল টেকসই করতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। খাল-নালায় যত্রতত্র বর্জ্য ফেললে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আবারও তৈরি হবে। আমরা যদি সচেতন না হই এবং খালে বর্জ্য ফেলতে থাকি, তাহলে কোনো প্রকল্পই শতভাগ সুফল দিতে পারবে না। দিন শেষে এর ভোগান্তি আমাদেরই পোহাতে হবে।

পরিদর্শনকালে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রসঙ্গ টেনে চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পটিকে লাভজনক করতে হলে নিয়মিত টোল প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কালুরঘাট থেকে চাক্তাই পর্যন্ত সংযোগ সড়কের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যা নগরের যানজট নিরসনের পাশাপাশি খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার করবে। এই সড়কটি চালু হলে বিভিন্ন উপজেলার সাথে পণ্য পরিবহনে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top