চিরকুটের সূত্রেই পটিয়ার শিশু জায়হান হত্যার রহস্য উদঘাটন

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকায় পাঁচ বছরের শিশু জায়হানের নিখোঁজের ঘটনায় শুরুতে বিষয়টি অপহরণ বলে ধারণা করা হলেও পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুক্তিপণ দাবি করা একটি চিরকুটই শেষ পর্যন্ত পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচনের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।

গত ১৬ জুন নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুটির পরিবার একটি চিরকুট পায়, যেখানে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে চিরকুটটিতে কোনো যোগাযোগ নম্বর বা অর্থ আদায়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়ে।

জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়। এক পর্যায়ে এমন একটি ঘরের সন্ধান মেলে, যেখানে পাওয়া যায় চিরকুটে ব্যবহৃত একই ধরনের প্যাড। শুধু তাই নয়, সেখানে লেখা খসড়া নোটও উদ্ধার করা হয়, যা চিরকুট লেখার আগে প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

এই আলামতগুলো বিশ্লেষণের পর তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে চিরকুটটি ওই বাড়িতেই তৈরি হয়েছে। এরপর বাড়ির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাদের আলাদা করে লেখার নমুনাও নেওয়া হয়।

তুলনামূলক বিশ্লেষণে ওই পরিবারের তরুণী সাদিয়া আক্তার নেহার হাতের লেখার সঙ্গে চিরকুটের লেখার মিল পাওয়া যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি প্রথমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেন, তিনিই মুক্তিপণের চিরকুটটি লিখেছিলেন।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে শিশু জায়হানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ছোট ছোট সূত্র—বিশেষ করে চিরকুটের কাগজ, খসড়া লেখা এবং হাতের লেখার মিল—ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে সাদিয়া আক্তার নেহা এবং তার বাবা-মাকে।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top