হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান সিএমএমের

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জনসেবাকে হয়রানিমুক্ত করতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার।

সোমবার (১৫ জুন) চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম।

এছাড়া অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম, বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট (চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন) মো. সোয়েব খান, বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) হামীমুন তানজীন, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনজীবী প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআই, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা প্রশাসন এবং চট্টগ্রাম মহানগরের ১৬ থানার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

গ্রেপ্তারে যুক্তিসংগত কারণ দেখানোর নির্দেশ

সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সিএমএম বলেন, ‘শোন অ্যারেস্ট’ বা গ্রেপ্তার দেখানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই কেস ডায়েরির কপি উপস্থাপন করতে হবে এবং সেখানে গ্রেপ্তারের যৌক্তিক কারণ উল্লেখ থাকতে হবে। শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে বা ঢালাওভাবে কাউকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি আরও বলেন, ভিকটিমকে পরীক্ষা করা চিকিৎসকদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারার আওতায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং মেডিকেল অফিসারদের যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংযুক্ত রাখার নির্দেশনা দেন।

চমেকে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

কনফারেন্সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ও রোগী হয়রানির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে সিএমএম বলেন, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে রোগী ও স্বজনদের জিম্মি করে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। অসহায় সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসি যৌথভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

এ বিষয়ে পূর্বে দেওয়া আদালতের আদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে চিকিৎসা সনদ দ্রুত প্রদানের লক্ষ্যে কমিটি বা বোর্ড গঠন করা যায় কি না সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধিকে নির্দেশনা দেন।

তদন্ত কার্যক্রমে আইনগত সহায়তার আশ্বাস

পরবর্তীতে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং আলোচ্যসূচি উপস্থাপন করেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জরা তদন্ত কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় সভাপতি বিভিন্ন আইনগত নির্দেশনা ও করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, এ ধরনের কনফারেন্স তথ্য আদান-প্রদান ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম হিসেবে কাজ করে, যা পুলিশের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আদালতের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জব্দকৃত আলামত দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আদালত এলাকায় পুলিশের টহল জোরদারের দাবি জানান।

অন্যদিকে আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, বিচারাধীন মামলার তুলনায় বর্তমান ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহানগর দায়রা জজ জানান, আদালত প্রাঙ্গণে থাকা জব্দকৃত আলামত নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মহানগর দায়রা জজ আদালত ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগ গ্রহণে চালু ইমেইল ও অভিযোগ বক্স

সমাপনী বক্তব্যে সিএমএম এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখানো হবে না এবং সেবা গ্রহণে হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ‘সিএমএম, চট্টগ্রাম সমীপে’ নামে একটি ইমেইল এবং আদালত প্রাঙ্গণে অভিযোগ বক্স চালু করা হয়েছে বলে জানান।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top