যুবদল নেতা মাসুদুল খুনের ঘটনায় মামলা, সেই ৫ অস্ত্রধারী আসামি

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের করা হয়েছে। নিহত মাসুদুলের বড় ভাই ও রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলাটি দায়ের করছেন।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও মামলার বাদী পেয়ারুল হক স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এজাহারে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত হওয়া ৫ খুনিসহ ১০-১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী পেয়ারুল হক স্বপন তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ মোহাম্মদ জাকির (৪২) নামে স্থানীয় এক দোকানিকে আটক করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে বাজারে তার গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিকভাবে মামলা দায়ের না হওয়ায় গত রোববার ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মূল হত্যা মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর জাকিরকে এই মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে চট্টগ্রামের শীর্ষ এক সন্ত্রাসীর অনুসারীরা। তাদের মধ্যে দুইজনের বাড়ি রাউজানের কদলপুর, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার একজন এবং রাউজান সদর পূর্ব রাউজান এলাকার দুইজন রয়েছে। এদের সবার বিরুদ্ধে আগে থেকেই হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। এরা ইতিপূর্বে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলো। তবে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, অস্ত্র হাতে সিসিটিভি ফুটেজে যে পাঁচজনকে দেখা গেছে, তারা মূলত বিদেশে পলাতক দুর্ধর্ষ এক সন্ত্রাসীর ক্যাডার। তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতারের স্বার্থে পুলিশ সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে।

গত শনিবার বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার দিন মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চৌমুহনী বাজারে আসেন। সন্ত্রাসীরা আরেকটি অটোরিকশায় করে ৫ কিলোমিটার দূর থেকে তাকে অনুসরণ করে আসছিল। মাসুদুল অটোরিকশা থেকে নেমে একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়ানো মাত্রই সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালায়।

ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে দুজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মাসুদুল মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর দৌড়ে এসে বাকী তিনজন তাকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি করে। গুলিতে মাসুদের মাথার মগজ বেরিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খুনের মিশন শেষ করে সন্ত্রাসীরা অটোরিকশাযোগে রাউজানের পাহাড়তলী ও কদলপুরের পাহাড়ি অঞ্চলের নিরাপদ আস্তানার দিকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জনপ্রিয় এই যুবদল নেতা। এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করেছে কর্ণফুলী নদীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও তীব্র আঞ্চলিক আধিপত্যের বিরোধ। এসবের কারণেই প্রতিপক্ষরা তাকে সুপরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, রবিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মাসুদুল হকের মরদেহ চম্পাতলী ঈদগাহ মাঠে নিয়ে আসা হলে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাদে আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজার পূর্বে কেন্দ্রীয় ও জেলা যুবদলের নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের আলটিমেটাম দেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি মামলার অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এসএ

Scroll to Top