অমিতের মাঝে ভবিষ্যৎ দেখছেন মুশফিক

ক্রীড়া ডেস্ক: ঢাকা টেস্ট চলাকালেই পালিত হলো বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের ৩৯তম জন্মদিন। বিশেষ এই মুহূর্তে মাঠেই কেক কেটে উদযাপন করেন তিনি। পাকিস্তান সিরিজে প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটার অমিত হাসান কেক নিয়ে আসেন মুশফিকের কাছে। পরে মুশফিক নিজ হাতে কেক তুলে দেন অমিতকে।

জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে এমন আন্তরিক সম্পর্ক নতুন নয়। বিশেষ করে মুশফিকের শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন ও কঠোর পরিশ্রম তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অনুকরণীয় হয়ে আছে। শুধু জাতীয় দলের নবীনরাই নন, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটারদের অনেকেই তাকে আদর্শ হিসেবে দেখেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াডে প্রথমবার জায়গা করে নেন অমিত হাসান। ছোটবেলা থেকেই টেলিভিশনে মুশফিকের ব্যাটিং দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন তিনি। যদিও এখনো আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়নি, তবু জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে মুশফিকের মতো তারকার সঙ্গে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তরুণ এই ক্রিকেটার।

মুশফিকও অমিতের মধ্যে দেখছেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে নিজের মতো কাউকে দেখেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে সরাসরি নাম বলতে না চাইলেও পরে অমিতের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

মুশফিক বলেন, আমাদের দলে যেসব তরুণ আছে, তাদের নিয়ে আমি আশাবাদী। বিশেষ করে অমিতের মধ্যে ভালো সম্ভাবনা আছে। সে যদি নিজের খেলায় নিয়মিত পরিশ্রম করে, ইনশাআল্লাহ অনেক দূর যেতে পারবে।

অমিতের ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিসংখ্যানও তার সম্ভাবনার প্রমাণ দেয়। ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সময় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেন তিনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ২১৩ রানের ইনিংসসহ সর্বোচ্চ ৭৮৫ রান করে আলোচনায় আসেন। এক ম্যাচে ৪৫৫ বল খেলে ডাবল সেঞ্চুরিও করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।

দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মুশফিক নিজের পরিশ্রম আর শৃঙ্খলার জন্য আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। এখন শুধু টেস্ট ক্রিকেট খেললেও প্রস্তুতিতে তার কোনো ঘাটতি নেই। সিলেটে অনুশীলনের দুই দিনেও সবার আগে মাঠে এসে বাড়তি সময় ব্যাটিং ড্রিল করতে দেখা গেছে তাকে।

এ প্রসঙ্গে মুশফিক বলেন, প্রস্তুতি প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত বিষয়। কোনটা আমাকে আত্মবিশ্বাস দেয়, আমি সেটাই অনুসরণ করি। আমি একটু আগে এসে নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিই, যাতে অন্য কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।”

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিজের বিদায়ের আগে আরও কয়েকজন প্রস্তুত খেলোয়াড় দেখতে চান বলেও জানান তিনি।

তার ভাষায়, আমি চাই, যখন ক্রিকেট ছাড়ব তখন অন্তত দুই-তিনজন খেলোয়াড় তৈরি থাকুক, যারা এই জায়গাগুলো নিতে পারবে। যেন দলে কোনো বড় শূন্যতা তৈরি না হয়। এজন্য নিচের পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হওয়া খুব জরুরি।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এই অভিজ্ঞ তারকা মনে করেন, সঠিক পরিচর্যা আর ধারাবাহিক সুযোগ পেলে অমিতদের মতো তরুণরাই আগামী এক দশক জাতীয় দলকে সেবা দিতে পারবেন।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top