আনোয়ারা ভূমি অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিষ্ঠ এসিল্যান্ট ও সেবাগ্রহীতা

আনোয়ারা প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা ভূমি অফিসকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী দালালচক্র— এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। দালালদের দৌরাত্ম্যে যেমন সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তেমনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন খোদ ভূমি কর্মকর্তারাও।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা নিজেও দালাল ও অন্যায় তদবিরে অতিষ্ঠ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নামজারি, মিস মামলা, খাজনা আদায়সহ বিভিন্ন কাজে নিয়মিত অন্যায় তদবির নিয়ে ভূমি অফিসে ভিড় জমাচ্ছেন দালালচক্রের সদস্যরা।

অনেক ক্ষেত্রে সরকারি খাস জমি, আদালতে বিচারাধীন জমি কিংবা জাল ও ত্রুটিপূর্ণ দলিল নিয়ে নামজারির চেষ্টা করা হয়। এসব কাজে প্রভাব খাটানো, চাপ প্রয়োগ এমনকি হুমকি-হেনস্তার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভূমি অফিসে অবস্থান নিয়ে দালালচক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও হয়রানি করছে। সহজে কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তারা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক ও সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা।

স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, খতিয়ান, নামজারি, দিয়ারা সংশোধনী কিংবা ভূমিসংক্রান্ত মামলার জটিলতা সমাধানে অনেকেই সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে না গিয়ে দালালদের শরণাপন্ন হন। পরে কাজ না হওয়ায় প্রতারণার শিকার হন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন, ‌‘অনেকে টাকার বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ কাজ আদায়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু কাগজপত্রে সমস্যা থাকলে কর্মকর্তারা তা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন ক্ষমতার প্রভাব ও হুমকির ঘটনা ঘটে।’

অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির সময়ও নানা চাপের মুখে পড়তে হয় কর্মকর্তাদের। সরেজমিন তদন্তে জমির দখল না থাকলেও দখল দেখিয়ে প্রতিবেদন দিতে প্রভাব খাটানো হয়। প্রতিবেদন অনুকূলে না গেলে অফিসে এসে হুমকি ও হেনস্তার ঘটনাও ঘটে।

এদিকে, সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (ডিএলআরএস) ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল সেবার আওতায় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে অনলাইনে নামজারি আবেদন, ই-নামজারি নিষ্পত্তি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে দুর্নীতি কমলেও সচেতনতার অভাবে এখনও দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা চাটগাঁ নিউজকে বলেন, ‘পুরো অফিস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। দালালমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেবা প্রত্যাশীদের সরাসরি আমার অফিসে আসতে উৎসাহিত করছি। অন্য কারো মাধ্যমে আসলেই সেখানে দালাল প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে থাকা বেশ কয়েকটি সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর থেকেই একটি চক্র বিভিন্নভাবে অন্যায় তদবির ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। তাদের চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এসএ

Scroll to Top