বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় দিন দিন হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন নতুন করে ১৫ থেকে ২০ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে শুধুমাত্র হাম উপসর্গ নিয়েই ভর্তি রয়েছে ৭৩ জন শিশু। অন্যান্য রোগীসহ মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় শতাধিক, যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ। ফলে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
শনিবার (৯ মে) বিকেল ৫টা পর্যন্ত হাসপাতালে হামসহ বিভিন্ন রোগে ভর্তি ছিলেন মোট ১৩৯ জন রোগী, যার মধ্যে ৭৩ জনই হামে আক্রান্ত। এ ছাড়া কুরুকপাতা ইউনিয়নে এ পর্যন্ত চারজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত উপজেলায় মোট শনাক্ত হামের রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ জনে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কুরুকপাতা ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে প্রায় ৪২ কিলোমিটার হেঁটে রোগীদের উপজেলা হাসপাতালে আনা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ফলে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারছেন না।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ এপ্রিল সেখানে একটি অস্থায়ী ক্লিনিক স্থাপন করা হয়। তবে এরপরও হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং দিন দিন তা বাড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ জানান, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তিন গুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা, বিছানার চাদর ও খাবার সরবরাহে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। যদিও স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তবে জনবল সংকটের কারণে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনেক কর্মীকে দুর্গম কুরুকপাতার অস্থায়ী ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন।
চাটগাঁ নিউজ/ইলিয়াছ/এমকেএন






