স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর পুরোদস্তুর রাজনীতিতে সময় দিতে চান সাকিব আল হাসান। আর সেই রাজনৈতিক যাত্রায় তার একমাত্র পছন্দ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ—এ কথা স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য।
সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন, দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ৩৯ বছর বয়সী এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না, এখনও নেই।
তার ভাষায়, আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই। আমি যখন ছোট কোনো দলেও খেলেছি, সেই দলের প্রতিও অনুগত ছিলাম। আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।
বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ও নিষিদ্ধ অবস্থায় থাকলেও এই পরিস্থিতি স্থায়ী হবে না বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।
সাকিব বলেন, আজ নিষিদ্ধ আছে মানেই কি আজীবন নিষিদ্ধ থাকবে? কাউকে কি চিরদিন দমিয়ে রাখা যায়? এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। জোর করে কিছুদিন চেপে রাখা সম্ভব হলেও এতে দেশ বা রাজনীতির কোনো কল্যাণ হয় না।
রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানান সাবেক এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, অতীতের ভুল যদি আবারও পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কখনোই কাটবে না।
সাকিবের মতে, আমরা যদি আগে ভুল করে থাকি, আর এখন যদি সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে এই খেলা চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই ধারা বন্ধ করতে হবে। যে দল এটি বন্ধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, তারাই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। তবে সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে তার সংসদীয় মেয়াদ স্থায়ী হয় মাত্র সাত মাস। এরপর থেকে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করলেও মাগুরার মানুষের প্রতি নিজের আস্থা ও স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন দৃঢ়তার সঙ্গে।
তিনি বলেন, আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ আমাকে আবারও ভোট দেবে। আমি এবারের নির্বাচনেও অংশ নিতে আগ্রহী ছিলাম। ভেবেছিলাম ভোটে দাঁড়িয়েই নিজের জনপ্রিয়তা দেখিয়ে দেব। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা ও দলের সিদ্ধান্তের কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন সাকিব। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে হত্যা মামলাসহ চেক জালিয়াতি ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব মামলাকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।
দেশে ফেরার বিষয়ে সাকিব বলেন, আমি দ্রুতই দেশে ফিরতে চাই। আমি আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশেষ কোনো প্রটোকল চাই না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। এই নিশ্চয়তা কাল দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





