পাঁচদিন ধরে পানিতে টইটুম্বুর আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী বাজার! 
ক্ষোভ স্থানীয়দের

আনোয়ারা প্রতিনিধি: দুই দিন ধরে বৃষ্টিও নেই, নেই জোয়ারের পানিও। তারপরেও পানিতে টইটুম্বুর হয়ে রয়েছে আনোয়ারা উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চাতরী চৌমুহনী বাজার। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তবুও যেন হুঁশ ফিরছেনা উপজেলা প্রশাসনের!

জানা গেছে, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) অল্প বৃষ্টিতে চাতরী চৌমুহনী বাজার ও সিইউএফএল সড়কে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এসব পানি ঢুকে পড়ে বিভিন্ন দোকানে। জলবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া সড়কের দু’পাশে ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট গড়ে উঠায় সাধারণ মানুষের চলাচলেও ঘটছে  ব্যাঘাত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে নোংরা হাঁটু পানিতে জুতা হাতে নিয়ে মানুষজন চলাচল করছে। যেখানে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে আছেন  কেইপিজেড, সিইউএফএল, কাফকোসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিক ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী।

চাতরী চৌমুহনী থেকে সিইউএফএল, বন্দর সংযোগ সড়ক ও মেরিন একাডেমি পর্যন্ত ৫৮৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যে চাতরী চৌমুহনী বাজার সংলগ্ন সিইউএফএল সড়কের একাংশ ঢালাই করা হয়। তবে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কে জমে থাকা পানি পাশ্ববর্তী খালে যাওয়ার সম্ভব হচ্ছেনা। এদিকে জলবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা না থাকায় পাঁচদিন ধরে পানিবন্দি রয়েছে বাজারটি।

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পথচারী-সিএনজি চালক-ব্যবসায়ীরা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতে বাজার এলাকায় জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পাঁচদিন ধরে পানির মধ্যে ডুবে রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদের পায়ে হাঁটা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি কাঁচাবাজার ও দোকানীদের ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে। জলবদ্ধতায় এমন দুর্ভোগ হলেও স্থানীয় এমপি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন ও সওজের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এদিকে চলমান প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়ে সংযোগে পাওয়া যায়নি।

তবে দোহাজারী সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল নোমান পারভেজ জানান, গত বৃহস্পতিবার জলবদ্ধতা এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। জলবদ্ধতা নিরসনের জন্য রাস্তার পাশে আপতত ব্যবস্থা করা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাশ্ববর্তী বাজার ইজারাদার ও দোকানীরা বাধা দিয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশন কাজ শুরু করতে পারিনি।

আশা করছি আগামীকাল শনিবার কাজ শুরু করতে পারব।

চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/জেএইচ

Scroll to Top