হালদায় নমুনা ডিম ছাড়ল মা মাছ, পূর্ণ ডিম ছাড়ার অপেক্ষা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের হালদা নদী-কে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রাকৃতিকভাবে মাছের ডিম ছাড়ার প্রত্যাশা। ইতোমধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে, যা সংগ্রহকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত থেকেই ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে অবস্থান নেন।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর ভাটার জোয়ারে, রাত ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মনজুরুল কিবরিয়া।

তিনি বলেন, নদীর পরিবেশ ধীরে ধীরে ডিম ছাড়ার উপযোগী হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। বর্তমানে নদীর পানির টারবিডিটি (ঘোলাটে ভাব) ১০০ থেকে ১৫০-এর মধ্যে রয়েছে। এটি ৬০০ থেকে ৭০০ হলে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে জোয়ারের সময় নদীর বিভিন্ন অংশে মা মাছ ডিম ছেড়েছে বলে জানা গেছে।

হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট, রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা আজিমের ঘাট এবং নাপিতের ঘাটের কাটাখালী এলাকায় ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫টি করে ডিম পেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামলে হালদা নদীতে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়ে। এপ্রিলের শুরু থেকেই প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় নদীতে মা মাছের আনাগোনা বেড়েছে। ডিম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার চারটি সরকারি হ্যাচারি ও শতাধিক মাটির কুয়ায় রেণু পোনা ফোটানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

হালদা নদীর ডিম সংগ্রহকারী মো. কামাল বলেন, মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। এখন পুরোদমে ডিম ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছি। ইতোমধ্যে কিছু নমুনা ডিম সংগ্রহ করেছি।

প্রতিবছর হালদা নদীর দুই তীরে ৭০০ থেকে ৮০০ জন ডিম সংগ্রহকারী নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের আশায় অপেক্ষায় থাকেন।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top