আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস–২ মিশনের চার নভোচারী।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার তাদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুল নিরাপদে পৃথিবীতে অবতরণ করে।
এর মধ্য দিয়ে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবার চাঁদের চারপাশে মনুষ্যবাহী যান ঘুরে আসার ঐতিহাসিক মিশন সম্পন্ন হলো।
বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৬টা ৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ডে (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে) ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের মহাকাশযান অবতরণ করে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চগতির পুনঃপ্রবেশ শেষে প্যারাস্যুটের সাহায্যে সফলভাবে এই অবতরণ সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
উদ্ধারকারী দল আগে থেকেই সেখানে প্রস্তুত ছিল, তারা দ্রুত নভোচারীদের উদ্ধার করে।
মিশনে অংশ নেওয়া চার নভোচারী হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। ১০ দিনের এই মিশনে তারা মানব ইতিহাসে আগের যেকোনো অভিযানের চেয়ে বেশি দূরে মহাকাশে গিয়েছেন।
এই যাত্রায় তারা চাঁদের অদৃশ্য দিকটি ঘুরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও সিস্টেম পরীক্ষা করেন, যা ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো মিশনের সময় চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ—এ পর্যন্ত এই কৃতিত্ব রয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের।
মিশন শেষে প্রকৌশলীরা এখন ওরিয়ন ক্যাপসুলের হিট শিল্ড, নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং জীবনধারণ প্রযুক্তির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করবেন, যা ভবিষ্যতের আরও দূর মহাকাশ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই অভিযানে কয়েকটি ঐতিহাসিক দিকও রয়েছে। ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের চারপাশ ঘোরা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী, ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান নভোচারী হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
মিশনের সময় নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেন এবং একটি সূর্যগ্রহণ ও উল্কাপিণ্ডের আঘাতও দেখতে পান।
এই অভিজ্ঞতা নিয়ে রিড উইজম্যান বলেন, এই মিশন মানুষকে পৃথিবীর সৌন্দর্য ও বিশেষত্ব নতুন করে উপলব্ধি করতে অনুপ্রাণিত করবে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





