আনোয়ারা প্রতিনিধি: আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল আদালতের নির্দেশে পুনরায় দায়িত্বে বহাল হয়েছেন।
হাইকোর্ট বিভাগ-এর আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পুনরায় চেয়ারম্যান পদে বহাল করা হয়।
জানা গেছে, হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ৪৫৮/২০২৬-এর প্রেক্ষিতে এ আদেশ আসে। সংবিধানের ১০২(২)(ক) অনুচ্ছেদের অধীনে আবেদন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা ১৯ আগস্ট ২০২৪ ও ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ সালের দুটি আদেশ চ্যালেঞ্জ করেন চেয়ারম্যান হাসনাইন জলিল। তার অভিযোগ ছিল, এসব আদেশের মাধ্যমে আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই তার বৈধ আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
রিটে বিবাদী করা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং আনোয়ারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে।
পরে দুই দফা শুনানিতে আদালত সংশ্লিষ্ট দুটি আদেশের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত (স্টে) করেন এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাসনাইন জলিল চৌধুরীকে পূর্ণ চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার সব আর্থিক, প্রশাসনিক ও আইনগত ক্ষমতা অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে বলা হয়।
আদালত আরও নির্দেশ দেন, আবেদনকারীকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিবাদীদের কাছে নোটিশ পাঠাতে হবে। আদালতের সুপারিনটেনডেন্ট নাসিমা খাতুন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নানা অভিযোগ আনা হয়েছিল। তিনি হাইকোর্টে রিট করে ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিলের হাতে পুনরায় প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি তৎকালীন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের স্বাক্ষরিত এক আদেশে আনোয়ারা উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)দের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
ক্ষমতাচ্যুত চেয়ারম্যানদের মধ্যে ছিলেন বৈরাগের নোয়াব আলী, বারশতের এম এ কাইয়ুম শাহ, বারখাইনের হাসনাইন জলিল শাকিল, আনোয়ারা সদরের অসীম কুমার দেব, চাতরীর আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, বরুমচড়ার শামসুল ইসলাম, রায়পুরের আমিন শরীফ এবং জুঁইদণ্ডীর মো. ইদ্রিস।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর চেয়ারম্যানদের আত্মগোপনে থাকা এবং পরিষদে অনুপস্থিতির কারণে সে সময় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন






