চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজনীতি ছেড়েছেন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের অপসারিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ছাবের আহমদ।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দাবি করেছেন, জীবনে কখনো রাজনীতি করবেন না।
জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম আদালত ভবনের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেন। এই হলফনামা আজ স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
হলফনামায় ছাবের আহমদ উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একই সঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে ছিলেন। তবে এই পদটি তিনি নিজের উদ্যোগে নেননি, বরং জেলা পর্যায়ের নেতারা তাকে দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি কখনো মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেননি এবং সক্রিয় রাজনীতিও করেননি।
ওই হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ক্লান্তিজনিত কারণে দলীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই স্বেচ্ছায় ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং এখন থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন না।

স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৯ মে ইউপি নির্বাচনে ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের শৌচাগারে ঢুকে নৌকা প্রতীকে ৪০০ ব্যালটে সিল মারার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন ছাবের আহমদ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে বিপুল পরিমাণ ব্যালটসহ তার আটক হওয়ার সেই সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে তিনি ওই সময় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতির পদ পান। ২০২২ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হতে পারেননি তিনি। তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে হারিয়ে আবারও চেয়ারম্যান হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
জানতে চাইলে ছাবের আহমদ বলেন, ‘আমি জীবনেও আর রাজনীতি করব না। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত কোনো দলই করব না। তবে সমাজসেবা চালিয়ে যাব।’
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





