চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ, চলছে খালাস প্রক্রিয়া

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে।

গত ৩ মার্চ থেকে শুরু করে আগামী ১৭ মার্চ এই ১৪ দিনের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, অপরিশোধিত তেল ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে মোট ২১টি বড় জাহাজ বাংলাদেশে এসেছে এবং আসার পথে রয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি জাহাজ ইতিমধ্যে জ্বালানি খালাস সম্পন্ন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন এই জ্বালানি সরবরাহ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তালিকা অনুযায়ী, ২১টি জাহাজের মধ্যে ১১টির জ্বালানি খালাস ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সাতটি জাহাজে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম চলমান। এ ছাড়া দুটি জাহাজ আজ শনিবার বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করবে এবং আরেকটি জাহাজ আগামী ১৭ মার্চ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বর্তমানে সাতটি জাহাজ কুতুবদিয়া, সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারি ও ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট এলাকায় অবস্থান করে সরাসরি জ্বালানি খালাস করছে। এর মধ্যে ‘এলপিজি সেভান’ জাহাজটি কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস খালাস করছে। অন্যদিকে কাতার থেকে আসা ‘আল গালায়েল’ জাহাজটি ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটে অবস্থান করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস খালাস করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব জাহাজের খালাস কার্যক্রম ১৪ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নির্ভরশীল। কাতার থেকে আসা ‘আল জুর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের বড় জাহাজগুলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসছে গ্যাস তেল ও উচ্চ সালফারযুক্ত ফার্নেস তেল।

এ ছাড়া ভারত থেকে ‘এঞ্জেল নম্বর–১১’ ও ‘শুমিট–৭’ জাহাজে করে বেস তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আনা হয়েছে। এমনকি অস্ট্রেলিয়া থেকেও ‘প্রাচি’ নামের একটি জাহাজে করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আসছে, যা আগামী ১৭ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জাহাজগুলোর এজেন্সি ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে ইউনিগ্লোবাল, প্রাইড ও সি-সাইডসহ একাধিক শিপিং এজেন্সি। এর মধ্যে ইউনিগ্লোবাল কাতার থেকে আসা অধিকাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজের তদারকি করছে।

বন্দর সূত্র জানায়, ‘লেব্রেথাহ’ ও ‘র‍্যাফেলস সামুরা’ নামের দুটি জাহাজ আজ ১৪ মার্চ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এভাবে নিয়মিত জ্বালানিবাহী জাহাজ আসা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের মতো গ্যাসভিত্তিক জ্বালানির আমদানি বাড়ায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top