আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্থানীয় সময় ফ্লোরিডায় সংবাদ সম্মেলনে করেন ট্রাম্প।
সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন বলেও জানান।
ফ্লোরিডার ডোরাল শহরে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন– গত ১০ দিনের এই যুদ্ধ, যাতে ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।
তিনি এটিকে একটি ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সেখানে তাকে এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন, ইরানে যুদ্ধ এ সপ্তাহ বা কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হতে পারে কি না?
জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি হতে পারে। দেখুন, ইরানের নেতৃবৃন্দসহ সবকিছু নাই হয়ে গেছে। এমনকি তাদের দুই স্তরের নেতৃবৃন্দ মারা গেছে।”
তিনি দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে প্রায় ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওই দিনই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
যদিও ট্রাম্প বলেছেন সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে, তবুও তিনি সতর্ক করেছেন ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে আরও বড় হামলার মুখে পড়তে হবে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক বেড়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড একসময় ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
ট্রাম্প বলেন, “আমি কোনো সন্ত্রাসী শাসনকে বিশ্বকে জিম্মি করে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করতে দেব না। ইরান যদি এমন কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর আরও অনেক কঠোর হামলা হবে।”
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা দিচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাদের সুরক্ষায় পাশে থাকবে।
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আজ থেকে আমরা জানি তারা কোথায় কোথায় ড্রোন তৈরি করে এবং একের পর এক সেসব স্থাপনায় হামলা চলছে।”
তার দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন ‘প্রায় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে, সম্ভবত তারও কম’।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





