আদালতের রুল জারির পর চসিকের লিজ বাতিল করল চট্টগ্রাম বন্দর

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: আদালত অবমাননার রুল জারির পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) দেওয়া কর্ণফুলী পাড়ের সেই ৬ একর জমির লিজ বাতিল করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বন্দর সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ রেফায়েত হামিম সাক্ষরিত সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেওয়া এক চিঠিতে এ লিজ বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এর আগে রোববার বন্দরের লিজকৃত ওই জায়গা নিয়ে উচ্চ আদালতে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামানসহ ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন।

বন্দর চেয়ারম্যান ছাড়াও বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান, সদস্য (অর্থ) মো. শহিদুল আলম, সদস্য (ইঞ্জিনিয়ারিং) কমডোর কাউসার রশিদ এবং সম্পত্তি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় কেন আদালত অবমাননার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হবে না- সেই মর্মে রুল জারি করেন আদালত। তবে রুল জারি হওয়ার আগেই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বদলি হয়ে যান তিন সদস্য।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নদীর ফিরিঙ্গি বাজার মৌজার বিএস ৬০১ দাগের কিছু জমি- যা জরিপে নদী হিসেবে স্বীকৃত, সেটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে এইচআরপিবির পক্ষে একটি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়।

এইচআরপিবির পক্ষে মামলার আবেদনকারী হলেন অ্যাডভোকেট মো. সারোয়ার আহাদ চৌধুরী এবং এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া। মামলায় বিবাদীরা হলেন- রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শহিদুল আলম, কমোডর কাউসার রশিদ ও মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন। মামলায় বাদীপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

আদালত আরেক আদেশে ফিরিঙ্গি বাজার মৌজার আর এস দাগ নং ৬০১ এর জমি সংক্রান্ত বিষয় পরবর্তী সব কার্যক্রমের ওপর স্থিতিবস্থা আদেশ জারি করেছেন। শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষের কৌশলী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোরসেদ বলেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষার ব্যাপারে আদালতের রায়ের নির্দেশনা অনুসারে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা, নদীর সীমানা অনুসারে নদী রক্ষার নির্দেশনা রয়েছে এবং আদালত জলাধার সংরক্ষণ আইনে নদীর অবস্থানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এর আগেও রায় অমান্য করে কর্ণফুলী নদীর জায়গা লিজ দেওয়ায় আদালত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন এবং স্থিতিবস্থা আদেশ দেন।

কর্ণফুলী নদী রক্ষায় এইচআরপিবির করা জনস্বার্থের মামলায় হাইকোর্ট রায় দিয়ে কয়েক দফা নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে জরিপ অনুসারে কর্ণফুলী নদী রক্ষার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনা অমান্য করে কর্ণফুলী নদীর অংশ যা জরিপে নদী হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেটি সিটি করপোরেশনকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি। সে কারণে বন্দর চেয়ারম্যানসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতের রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top