রাউজান প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রামের রাউজানে সনাতন সম্প্রদায়ের চার বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে—এমন দাবি করে একটি ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টে শিশুটির মা স্থানীয় মুরুব্বিদের কাছে সালিশের মাধ্যমে বিচার চাইছেন বলেও দাবি করা হয়। তবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অনুসন্ধানে রাউজান থানা এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাউজানের ঘটনা হিসেবে প্রচারিত ছবিটি রাউজানের নয়। ছবিটি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের গত ২০ জুনের একটি ঘটনার ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।
সম্প্রতি ‘Nondini Rani’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে শিশুটির মায়ের আকুতির ছবি প্রকাশ করে দাবি করা হয়, ঘটনাটি রাউজানে ঘটেছে এবং ভুক্তভোগীর মা স্থানীয়দের কাছে বিচার চেয়ে আকুতি জানাচ্ছেন। শিশুটির ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে পোস্টটি ছড়িয়ে দেওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভ্রান্তি ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ দ্রুত অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভাইরাল ছবিটি রাউজানের নয়; এটি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের ২০ জুনের একটি ঘটনার ভিডিও থেকে নেওয়া।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, ছবিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৃত ঘটনাটি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার। ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের, শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, রাউজান থানা এলাকায় এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর বা স্পর্শকাতর ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। মাদারীপুরের পুরোনো একটি ঘটনার ছবি বিকৃত উদ্দেশ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে রাউজানের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশের সাইবার ইউনিট কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বলেছে, শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। এতে একদিকে যেমন সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুর ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।
রাউজানকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বা ছবি শেয়ার না করতে সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/জয়নাল/এমকেএন





