উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালংয়ে ফেসবুকে দেওয়া ‘হা হা’ রিঅ্যাকশনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধর এবং ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যুর আলোচিত ঘটনায় তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মামলার আসামি মিজানুর রহমান সিকদার, মো. হাশেম সিকদার ও জিসান। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহত ছৈয়দা বেগমের ছেলে এস এম ইমরান। তিনি বলেন, আসামিরা কারাগারে যাওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
মামলার আইনজীবী রেজাউল করিম সিকদার আজিমও আসামিদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
মামলার অভিযোগ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টাইপালং এলাকায় ফেসবুকে একটি পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাকশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এর জেরে এক তরুণকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান তার স্বজন ও এনজিওকর্মী এস এম ইমরান। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তার মা ছৈয়দা বেগম।
স্বজনদের দাবি, সেখানে ছৈয়দা বেগম আহত হন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর উখিয়া থানায় মামলা করেন নিহত ছৈয়দা বেগমের ছেলে এস এম ইমরান। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সোমবার মিজানুর রহমান সিকদার, মো. হাশেম সিকদার ও জিসান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আসামিদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সাময়িক স্বস্তি এলেও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি স্বস্তি ফিরবে না বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
চাটগাঁ নিউজ/মোস্তফা/এমকেএন





