রাউজান প্রতিনিধি: প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়ম ও সরকারি সরঞ্জাম বিক্রিসহ নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসুর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে খামারিদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের মুখে নিজের শেষ কর্মদিবসে পুলিশ পাহারায় কার্যালয় ছাড়তে হয়েছে সদ্য বদলি হওয়া এই কর্মকর্তাকে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক খামারি ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডা. জয়িতা বসুর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে দপ্তরে একটি ঘরোয়া বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। এ খবর পেয়ে আগে থেকেই আন্দোলনে থাকা খামারিরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দপ্তর থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পরে পুলিশ পাহারায় একটি গাড়িতে করে ডা. জয়িতা বসু দপ্তর ত্যাগ করার সময় আন্দোলনকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন।
খামারিদের অভিযোগ, ডা. জয়িতা বসু ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে সরকারি প্রণোদনা ও বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন কয়েকজন খামারি। একই অভিযোগে গত ১৫ আগস্ট ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলনও করেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ আগস্ট এক অফিস আদেশে ডা. জয়িতা বসুকে পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে বদলি করা হয়।
মানববন্ধনে মোহাম্মদপুরের আসিফ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুর রহমান আসিফ অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি দপ্তরের সরকারি সরঞ্জামও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কদলপুরের এক ব্যক্তির কাছে প্রতিটি ৩০০ টাকা দরে ৫০টি সরকারি চেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ হাজার টাকায় একটি ঘাস কাটার যন্ত্র বিক্রি এবং দুধ দোহনের একটি মেশিন অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি দপ্তরের এসিও খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন খামারি মনছুরুল হাসান চৌধুরী, সালাউদ্দিন, আলমগীর, রত্না মুহুরী ও মোহাম্মদ আলী আকবর। তাঁরা অভিযোগ করেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তাঁদের নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। তাঁরা এসব অভিযোগের বিভাগীয় ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. জয়িতা বসু। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, তাঁর সব কর্মকাণ্ড প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম করেননি।
দপ্তরের এসি নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে সরকারি এসি নেই। তাঁর কার্যালয়েও কোনো সরকারি এসি ছিল না। তিনি নিজের কেনা পুরোনো একটি এসি ব্যবহার করতেন, যা বদলির কারণে তিনি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।
ডা. জয়িতা বসুর দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
ঘটনার বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্মকর্তার অনুরোধে কার্যালয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাটগাঁ নিউজ/জয়নাল/এমকেএন





