আনোয়ারায় দোকান দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, ২২ জনের বিরুদ্ধে এজাহার

আনোয়ারা প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজারে দোকান দখলকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ী ও বাজারের ইজারাদারের ম্যানেজারের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দোকান ভাঙচুর, মালামাল লুট ও বাজারের দৈনিক তোলা আদায়ের নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাজারের ইজারাদার মোহাম্মদ জাগির আহমদের ম্যানেজার মো. হেলাল চৌধুরী (৩৫) বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে আনোয়ারা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেল ৫টার দিকে চাতরী চৌমুহনী বাজারের মুদি দোকানদার মো. রুবেলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়ক মো. দেলোয়ার ওরফে ভাঙা দেলোয়ার (৪২), মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে দোহা শহীদ (৪৫), আবদুল হামিদ ওরফে সুমন (৫২), ইসহাক ওরফে মনু (২৬) ও মো. ওসমান (৩৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাতরী চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী মো. রুবেলের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ছিল। এর জেরে অভিযুক্তরা রুবেলের বরাদ্দকৃত দোকানটি দখলের চেষ্টা এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার দিন বিকেলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো কিরিচ, লোহার রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রুবেলের মুদি দোকানে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে রুবেলকে দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে বাজারের ইজারাদারের ম্যানেজার হেলাল চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা তার ওপরও হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় দেলোয়ার ও শহিদুল হেলাল চৌধুরীর পকেটে থাকা ইজারা আদায়ের নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা দোকানে তাণ্ডব চালিয়ে আনুমানিক ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরে দোকানের টিন, বাঁশ ও কাঠের খুঁটিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খুলে নিয়ে যান, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাজারের ইজারাদার মো. জাগির আহমদসহ সংশ্লিষ্টদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর আহত রুবেল ও হেলাল চৌধুরীকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চাতরী চৌমুহনী বাজারের ইজারাদার মো. জাগির আহমদ বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসিয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে তারাই হামলা করে দোকান দখলের চেষ্টা করেছে। ঘটনার দিনের ভিডিওচিত্রে এর প্রমাণ রয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত মো. দেলোয়ারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘চাতরী চৌমুহনী বাজারের ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন

 

Scroll to Top