কর্ণফুলীর ভাঙনে বিলীনের পথে ফকিরখীল, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ফকিরখীল গ্রামে তীব্র নদীভাঙনে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক পরিবার। কর্ণফুলী নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নতুন করে আরও কয়েকটি পরিবারের বসতঘর এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখীল গ্রামের সিঁড়িঘাট এলাকা থেকে ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটারজুড়ে নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও নদীর পাড় ধসে পড়েছে, আবার কোথাও বসতঘরের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে কর্ণফুলীর পানি।

নদীপাড়ের এমনই ঝুঁকিপূর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছেন দিনমজুর আব্দুল্লাহ। নদী ইতোমধ্যে তার ঘরের প্রায় অর্ধেক অংশ গ্রাস করেছে। অবশিষ্ট অংশটুকুও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। ঘরের শয়নকক্ষের মেঝেতে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। সেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরেই বৃদ্ধা মা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

আব্দুল্লাহ বলেন, ঝুঁকি আছে জেনেও বাধ্য হয়ে এখানে থাকতে হচ্ছে। অন্য কোথাও যাওয়ার মতো জায়গা বা সামর্থ্য কোনোটাই নেই। সহায়-সম্বল বলতে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। ঘরের শেষ অংশটুকুও যদি নদীতে চলে যায়, তাহলে পরিবার নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব—তা বুঝতে পারছি না।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে কর্ণফুলীর ভাঙনে এ এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার বসতভিটা ও সম্পদ হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে নদীপাড়ের আরও শতাধিক পরিবার একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার খবর পেয়ে ফকিরখীল পরিদর্শন করেন উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ভিপি আনছুর উদ্দিন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন এবং সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্লক স্থাপন বা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। বিষয়টি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন আনছুর উদ্দিন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন

Scroll to Top