৮ ইমারত পরিদর্শককে অব্যাহতি দিল সিডিএ

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আটজন ইমারত পরিদর্শককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের প্রায় পাঁচ মাস পর তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

রবিবার সিডিএর সচিব মাহবুব উল করিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত আট ইমারত পরিদর্শক হলেন—অনয় সিংহ সুজাত (রোল ২০০১২৫), দ্বিন ইসলাম লিমন (২০০১৩২), মো. আবদুর রহমান রিয়াদ (২০০১২৭), তাহমিদুল ইসলাম ইবনুল (২০০২৬২), মো. মাহিদুল হাসান (২০০২২৪), মো. ইকরামুল হক (২০০২৫৬), ইজতিহাদ ইসলাম খান (২০০১৭১) ও মো. শরিফুল ইসলাম (২০০১৬৮)।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে দেওয়া নিয়োগপত্রের শর্তানুযায়ী যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় এবং তাদের যোগদানপত্র গৃহীত না হওয়ায় ৮ জন ইমারত পরিদর্শককে চউকের চাকরি হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।’

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভে ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব শর্ত উপেক্ষা করে এসএসসি পাস করা প্রার্থীদেরও ইমারত পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ১৭ নম্বর কলামে ১৮ জন ইমারত পরিদর্শক নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়।

জানা গেছে, এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৫ জানুয়ারি মৌখিক পরীক্ষা শেষে একই দিন নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপত্র দেওয়া হয় এবং ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁরা চাকরিতে যোগ দেন। পরে ৯ মার্চ তাঁদের অথরাইজেশন শাখায় পদায়ন করা হয়। গত ২ এপ্রিল বোর্ডসভায় আট ইমারত পরিদর্শককে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয় ৬ আগস্টের অফিস আদেশের মাধ্যমে।

সূত্র জানায়, চাকরিতে যোগদানের পর প্রায় পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন করলেও ওই আটজনের কেউ বেতন পাননি। এ ঘটনায় সিডিএর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চাকরির প্রবিধানমালা ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রার্থীরা আবেদন, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের সব ধাপ অতিক্রম করলেন—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, একাধিক লিখিত অভিযোগ এবং মন্ত্রণালয়ের তদন্তের বিষয়ও সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রশ্ন ও আপত্তি উপেক্ষা করেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করেছিল তৎকালীন প্রশাসন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেগুলোর কোনোটি প্রকাশ্যে আসেনি।

বর্তমান সরকার ও চেয়ারম্যান পরিবর্তনের পর বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বোর্ডসভায় বিতর্কিত এ নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে কয়েকজনের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হলে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বোর্ডের সিদ্ধান্তের পরও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং একটি চক্র মন্ত্রণালয়ে তদবিরের মাধ্যমে নিয়োগকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির শর্ত ও চাকরি প্রবিধানমালা ভঙ্গ করে উচ্চমাধ্যমিকের পরিবর্তে এসএসসি পাস করা সার্ভেয়ারদের ইমারত পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তীব্র সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ এটিকে ক্ষমতার অপব্যবহার বা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখছেন। তবে তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শতভাগ স্বচ্ছ বলে দাবি করেছিলেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অর্থ ও প্রশাসন সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) নুরুল্লাহ নুরী আগে বলেছিলেন, ‘কোনো প্রার্থীর চাহিত যোগ্যতা না থাকলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণেরই সুযোগ নেই। তারপরও যদি এমন কম যোগ্যতাসম্পন্ন কারও নিয়োগ হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনে তাদের নিয়োগ বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top