রঙের ছোঁয়া পাচ্ছে অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক ডিভাইডারের অপর অংশটিও
সমালোচনার পর টনক নড়ল প্রশাসনের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস’— কবিতার এই পঙক্তির মতো একটির ডিভাইডারের দুই পাশের অবস্থাটিও ঠিক এমন। এক পাশে রঙের ছোঁয়া লাগলেও অন্য পাশটি একবারেই মলিন। বলছিলাম অক্সিজেন-হাটহাজারী মহাসড়কের ডিভাইডারের কথা। যদিও সমালোচনার পর আজ সোমবার থেকে ডিভাইডারের অন্য পাশটিও পাচ্ছে রঙের ছোঁয়া।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ি গেলেও ফটিকছড়ি থেকে হাটহাজারী-অক্সিজেন হয়ে নগরের কাজির দেউরির রেডিসন ব্লুতে এসেছেন সড়কপথে। তাঁর এই আগমন ঘিরে যেমন সাজ সাজ রব উঠেছে নগরজুড়ে, তেমনি রঙের আঁচড় লেগেছে সড়ক ডিভাইডারগুলোতেও।

যদিও অভিযোগ আছে,  প্রধানমন্ত্রী রাস্তার যে অংশটিতে যাতায়াত করেছেন কেবল সেই অংশের সড়ক ডিভাইডারের অংশটি রঙ করা হয়েছে। মলিন রাখা হয়েছে অন্য অংশ। অক্সিজেন থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কটির এমন দৃশ্যের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ফেসবুক সয়লাব হয়ে যায় ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট ও রসিকতাময় ভিডিওতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী সড়কের যে পাশ দিয়ে গেছেন, কেবল সেই পাশটিই পরিষ্কার করা এবং ডিভাইডারে রঙ করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অন্য পাশটি ছিল অপরিষ্কার এবং ডিভাইডারেও করা হয়নি রঙ।

সরেজমিনে সড়কটি ঘুরে দেখা যায়, সড়কের এক পাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।  ডিভাইডারে রঙ করা হয়েছে। অন্য পাশে সড়কের ওপর ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে এবং ডিভাইডারেও রঙ করা হয়নি। যেন মুদ্রার ‘এপিঠ আর ওপিঠ’।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করা মো. জামশেদ জানান, অক্সিজেন থেকে নিয়মিত আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। বের হওয়ার সময় ভেবেছিলাম সুন্দর একটি রাস্তা পাব। কিন্তু হাটহাজারী যাওয়ার অংশটি ছিল খুবই কদর্যময়। সড়কের ডিভাইডারের এক পাশে রঙ করা হয়েছে, অন্য পাশে করা হয়নি। বিষয়টি শোভনীয় লাগেনি।

বড়দীঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী যাতায়াতের জন্য সড়কের যে পাশে পথ নির্ধারিত ছিল ওই পাশেই কেবল পরিষ্কার-পরিছন্ন এবং ডিভাইডারে রং লাগানো হয়েছে। মূলত প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতেই এটি করেছে সড়ক বিভাগ। সড়কটির উন্নয়নে তাদের নজর নেই।

হাটহাজারীর বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, তাদের মনে হয় বাজেটে সমস্যা হয়েছে। তারা আমাদের বললে আমরা চাঁদা তুলে হলেও ডিভাইডারের অপর পাশ রঙ করানোর ব্যবস্থা করতাম।

এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ডিভাইডারে রং করার কাজ শুরু হয়নি। এটি সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণের চলমান কার্যক্রম। বৃষ্টিসহ নানা কারণে একসঙ্গে দুই পাশের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী রঞ্জন কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী আসার দুই থেকে তিন দিন আগেই কাজ শুরু করেছিলাম। তবে বৃষ্টি ও নানা ধরনের সমস্যার কারণে উভয় পাশে কাজ করা সম্ভব হয়নি। পারিনি। তবে আমরা আজ (সোমবার) থেকে ডিভাইডারের অন্য পাশটিও রঙ করার কাজ শুরু করেছি।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, আমি সম্পূর্ণ বিষয়ে অবগত আছি। আজ সকালেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা আমাকে জানাল এত দিন বৃষ্টির কারণে মূলত তারা উভয় পাশে রঙ করতে পারেনি। আজ সকাল থেকে তারা রাস্তার অপর পাশে রং করার কাজ শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা প্রায় এক মাস আগে থেকেই সড়কের পাশের জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছি। এরপর ব্রিজ-কালভার্ট পরিষ্কারসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। এখন ডিভাইডারে রঙ করার কাজ চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম সফরে এসে হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে সেখান থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িসংলগ্ন হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন তিনি। পরে সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে সফরের সমাপ্তি করেন।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top