অর্থ সংকটে বন্ধ ট্যাগ কার্যক্রম, সিএমপির নিজস্ব জনবলে চলবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে জনবল সংকটে থাকা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিকবিভাগ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৬ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো হয়েছিল। নগরীর ১৭টি পয়েন্টে তারা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদেরকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে যানজট বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক নিয়মে নিজস্ব জনবল দিয়েই ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার কথা বলছে সিএমপি’র ট্র্যাফিক বিভাগ।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে দায়িত্ব পালন করছে না প্রশিক্ষিত শিক্ষার্থীরা। সম্মানীর ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ করতেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু অর্থসংকটে তাদের সেই সম্মানী দিতে পারছে না সিএমপি’র ট্র্যাফিক বিভাগ। এ কারণে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কার্যক্রমটি পুনরায় চালুর দাবিতে সরকারের উচ্চপর্যায়, পুলিশ সদর দপ্তর ও সিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ট্যাগ সদস্যরা। আবেদনে তারা জানিয়েছেন, সিএমপির ট্র্যাফিক বিভাগের সংকটকালীন সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন তারা। এজন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এখান থেকে পাওয়া অর্থ তাদের কাজে লাগছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই যেন বিষয়টি মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে কার্যক্রমটি যেন পুনরায় চালু করা হয়।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্র্যাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া জানিয়েছেন, সিএমপির ট্র্যাফিক সহযোগী হিসেবে কাজ করা শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছিল। এর সঙ্গে অবশ্য তাদের সম্মানী, ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়টিও রয়েছে। এ কারণে আপাতত সেচ্ছাসেবক ট্র্যাফিক সদস্যদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এখন সিএমপির নিজস্ব জনবল দিয়েই ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে যখন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ট্র্যাফিক পুলিশ সংকটে পড়ে, তখন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ট্র্যাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ মাঠে নামে। এরপর থেকে ট্র্যাফিক কনস্টেবল, সার্জেন্ট, ট্র্যাফিক পরিদর্শক (টিআই) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া আটটি হত্যা মামলার সাক্ষী হিসেবে ট্যাগ সদস্যরা আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। ফলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top