মিরাজের বদলে ওয়ানডে অধিনায়ক লিটন

ক্রীড়া ডেস্ক: ওয়ানডে ক্রিকেটের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ বুধবার অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় সিদ্ধান্তের পর ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে। তার জায়গায় নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসকে।

আগে থেকেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নেতৃত্বে থাকা লিটন এখন থেকে সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই দলকে নেতৃত্ব দেবেন। লাল বলের টেস্ট দলের অধিনায়ক বহাল থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণে লিটনের সহকারী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন তৌহিদ হৃদয়। মূলত তিন অধিনায়কের জটিলতা ভেঙে দুই অধিনায়কের কাঠামোতে ফিরলো বিসিবি। লাল ও সাদা বলের ক্রিকেটকে আলাদা করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর মিরাজের নেতৃত্ব নিয়ে দেশের ক্রিকেটপাড়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগ খেলে অস্ট্রেলিয়া সফরের উদ্দেশে গতকালই দেশে ফিরেছেন মিরাজ। তার পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখতেই নেতৃত্বের অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে মুক্ত করে দেয়ার পথ বেছে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

তিনি বলেন, আমাদের তিন সংস্করণে তিনজন অধিনায়ক ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের মধ্যে ভুল বা সঠিক বলে কিছু নেই। আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের দুইজন অধিনায়ক থাকা উচিত এবং বোর্ডও বিশ্বাস করে যে সাদা বল ও লাল বলের জন্য দুইজন অধিনায়ক থাকা প্রয়োজন। লিটন দাস হবেন সাদা বলের অধিনায়ক এবং শান্ত লাল বলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। সাদা বলের সহ-অধিনায়ক হবেন তৌহিদ হৃদয় আর লাল বলের সহ-অধিনায়ক হবেন মিরাজ। এছাড়াও আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত বাংলাদেশ সফরে আসবে তা নিয়ে আশাবাদী তামিম।

বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল অধিনায়কত্ব পরিবর্তনের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘মিরাজ অধিনায়ক হিসেবে সফল হলেও অলরাউন্ডার মিরাজকে পারফর্মার হিসেবেই দল বেশি মূল্যবান মনে করে। নেতৃত্বের মানসিক চাপে তার ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সহজাত ছন্দ নষ্ট হচ্ছিল। তাই উভয় পক্ষের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই তাকে অধিনায়কত্বের ভার থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

বিসিবি প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৩ জন ভিন্ন অধিনায়ক থাকলে পেস বোলারদের চোট ও কর্মভার ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়। তাই দুই অধিনায়কের অধীনে সুনির্দিষ্ট ৬ মাসের সুস্পষ্ট পরিকল্পনার পথে হাঁটবে জাতীয় দল। প্রতি সিরিজের জয় বা পরাজয়ে হঠাৎ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ক্রিকেটের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। প্রতি ৬ মাস পর টিম ম্যানেজমেন্টের কাজের সঠিক মূল্যায়ন হবে।

দলীয় কাঠামোর পাশাপাশি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন ক্রিকেট বোর্ড প্রধান।

তামিম বলেন, আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে বহুপ্রতীক্ষিত এক্সিলেন্স সেন্টারের কাজ শুরু করার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিসিবির নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে আগামী আড়াই থেকে ৩ বছরের মধ্যেই এই সেন্টার তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নকশা প্রতিষ্ঠান পপুলাসের তৈরি পূর্বের নকশায় কিছু প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই সেন্টারে বিসিবি কার্যালয়সহ ইনডোর ও আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূর্বাচলে নতুন ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য সরকারি ফান্ডের সাহায্য নেয়া হবে। কেবল সাময়িক জয় নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিসিবির বর্তমান নতুন পরিচালনা পর্ষদ।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top