চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : ভারত থেকে সরকারিভাবে আমদানি করা সিদ্ধ চালের একটি চালানের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠার পর প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মেট্রিক টন চাল খালাস স্থগিত করেছে খাদ্য বিভাগ।
সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় গত ২১ জুলাই ভারত থেকে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চালবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। পরদিন খাদ্য নমুনা পরীক্ষায় চালগুলো খাদ্যোপযোগী উল্লেখ করা হয়। ফলে চাল খালাস শুরু হয়। প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন চাল তেজগাঁও কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে, পাশাপাশি কয়েকশ মেট্রিক টন করে হালিশহর, দেওয়ানহাট ও জয়দেবপুরের সরকারি খাদ্য গুদামে পাঠানো হয়।
তবে গুদামে চাল পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, চালের একটি বড় অংশ নিম্নমানের, পুরোনো এবং অনেক ক্ষেত্রে পচা ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের অনুপযোগী। এ অভিযোগের পর বিষয়টি দ্রুত খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়। একই সময়ে পরিবহন ঠিকাদাররাও নিম্নমানের চাল বহনে আপত্তি জানিয়ে পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এর ফলে জাহাজে থাকা অবশিষ্ট প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চালের খালাসও বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার দাবি, জাহাজের বিভিন্ন অংশে পরিকল্পিতভাবে নিম্নমানের চাল এমনভাবে রাখা হয়েছিল যাতে প্রাথমিক নমুনা সংগ্রহের সময় তা ধরা না পড়ে এবং পরীক্ষার ফলাফলে প্রকৃত মান প্রতিফলিত না হয়। এ ঘটনায় ভারতীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের স্থানীয় নৌপরিবহন প্রতিনিধির বিরুদ্ধে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, চাল পচা নয়, কেবল কিছুটা লালচে রঙের।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্তে খাদ্য বিভাগের একটি বিশেষ দল জাহাজে কাজ করছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চাল খালাস করা হবে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বিধিবহির্ভূত বা নিম্নমানের কোনো চাল সরকার গ্রহণ করবে না। এ ঘটনাকে ঘিরে অতীতের খাদ্য আমদানিসংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আগে সক্রিয় থাকা একটি দুর্নীতিচক্রের কিছু সদস্য এখনো খাদ্য আমদানি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বর্তমানে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষমাণ রয়েছে এবং তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অবশিষ্ট চাল গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





