চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজে জলদস্যুতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে জরুরি চিঠি দিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
আজ বুধবার (২২ জুলাই) পাঠানো চিঠিতে চিটাগাং চেম্বার সভাপতি বলেন, গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার পণ্য, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে। এতে বিদেশি জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বর্তমান সরকারের নানামুখী বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ২০৩৫ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপের কারণে একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দর এতদঞ্চলের অন্যতম রিজিওনাল বিনিয়োগ ও ট্রান্সমোডাল লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে।

কিন্তু, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জলদস্যুতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে নিরাপত্তাহীনতা শুধু শিপিং শিল্পের জন্য নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব ঘটনার কারণে বিদেশি শিপিং অপারেটরদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়বে যা ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বিমা ব্যয়, জাহাজ পরিচালনায় বিলম্ব এবং বাণিজ্য ব্যয় বাড়াতে পারে। যেখানে সরকার ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাড়ানো এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে এ ধরনের ঘটনা সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
আমিরুল হক চিঠিতে আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা-রিজিওনাল কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট অন কমবেটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি অ্যাগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়ার (রিক্যাপ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো প্রকার দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্য মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের জলসীমায় যখন চুরি ও দস্যুতার ঘটনা চলমান, তখন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ তৎপরতা এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে এই সাফল্য এসেছে। কিন্তু, সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলো রিক্যাপ প্রতিবেদনে প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম নষ্ট হতে পারে।
তাই দেশে বিনিয়োগবান্ধব ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক ট্রেড পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে কোস্টগার্ডের টহল আরো জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ অপরাধী চক্রের সহযোগী ও চোরাই পণ্যের ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর প্রতি চেম্বার সভাপতি আহ্বান জানান।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






