সমকালের প্রতিবেদন নিয়ে চিকিৎসকদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট (হার্টের রিং) ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে দৈনিক সমকাল-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের জেরে চট্টগ্রামের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনটিকে “ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর” আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সোসাইটি অব ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি (সিএসআইসি)।

সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কথিত অবৈধ স্টেন্ট ব্যবসা, কমিশন বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ বিভাগের কোনো চিকিৎসক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করা হয়।

সিএসআইসি জানায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাথল্যাবে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। ব্যবহৃত স্টেন্ট ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও প্রচলিত সরকারি বিধি অনুসরণ করেই ব্যবহার করা হয়। ক্যাথল্যাবে অবৈধ বা অননুমোদিত স্টেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করে সংগঠনটি। একই সঙ্গে তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় নিরপেক্ষভাবে পরিদর্শন করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

বিবৃতিতে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহীম চৌধুরীকে ঘিরে প্রকাশিত তথ্যেরও প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বলা হয়, তিনি ২২ জুন ২০২৬ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর আত্মীয়স্বজন বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্টতার যে ইঙ্গিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

প্রতিবেদনে নথিপত্র দেখানোর পর বিভাগীয় প্রধান মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেছে সিএসআইসি। সংগঠনটির ভাষ্য, ঘটনাটি বাস্তবে প্রতিবেদনে বর্ণিতভাবে ঘটেনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান, রোগীর ক্লিনিক্যাল অবস্থা এবং প্রচলিত চিকিৎসা নির্দেশিকার আলোকে নেওয়া হয়। কমিশন গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের দায়িত্ব ছিল নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা।

চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে কোনো অনিয়ম থাকলে তা তদন্ত করা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া একটি সরকারি হাসপাতালের বিশেষায়িত বিভাগ ও চিকিৎসকদের সঙ্গে এমন অভিযোগ যুক্ত করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী।

সিএসআইসি দাবি করেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। এ ধরনের সংবাদ রোগীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা নষ্ট করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে দৈনিক সমকাল-এর কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। এগুলো হলো—প্রকাশিত তথ্য পুনরায় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা, হৃদরোগ বিভাগের প্রতিবাদ একই গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা এবং বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য সংশোধন করা।

সিএসআইসি বলেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ সবসময় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো নিরপেক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা বিভাগ ও এর চিকিৎসকদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রসঙ্গত, ২৬ জুলাই সমকালে ‘চট্টগ্রামের হাসপাতাল- হার্টের অবৈধ রিং ব্যবসা, জড়িত চিকিৎসক-নার্স’ এই শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম চোরাইপথে দেশে আনছে একটি চক্র। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে স্টেন্ট (হার্টের রিং), বেলুন ক্যাথেটার, গাইড ওয়্যার, গাইড ক্যাথেটার, ওয়াই-কানেক্টর, ম্যানিফোলড এবং শিথ টাইগার ক্যাথেটারের মতো সরঞ্জাম অবৈধভাবে আনা হচ্ছে। ভারতে তুলনামূলক কম দামে পাওয়ায় চক্রটি নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এগুলো সরবরাহ করছে। এতে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top