শিপইয়ার্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু: ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বিশেষজ্ঞ দল

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ তদন্ত দল।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তদন্ত দলের সদস্যরা শিপইয়ার্ডের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

এ সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমেদ, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মোহাম্মদ মেহেদি ইসলাম খানসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনের সময় তদন্ত দলের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ওই অংশটি পর্যবেক্ষণ করেন, যেখানে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং গ্যাস শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখেন তারা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিপইয়ার্ডে অবস্থান করে দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন।

এর আগে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক এবং সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সদস্যসচিব করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারী স্টেশন রোডসংলগ্ন ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে একটি পুরোনো স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে একে একে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রাথমিক পরীক্ষায় দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানও প্রাথমিকভাবে এই বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন।

দুর্ঘটনার পর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এবং কর্মপরিবেশ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণের পাশাপাশি শিপইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে। তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top