চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী মারসা পরিবহণের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। চলন্ত অবস্থায় দুই বাসের চালকের নিজেদের মধ্যে কথা বলার চেষ্টা করা কালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
শনিবার (৯ মে) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যেক্ষদর্শীর দেওয়া তথ্যমতে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী মারছা পরিবহনের দুটি বাস ওই এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় দুই চালক একে অপরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং রাস্তার দুপাশে থাকা গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী প্রাণ হারান। সংঘর্ষে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- পটিয়া উপজেলার চরকানাই এলাকার বাসিন্দা বদিউল আলমের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৬০), ঝিনাইদহ জেলার আবদুল্লাহ জিহাদ, ঝিনাইদহ সদরের ডাকবাংলা এলাকার মো. নাঈম ও ভোলা জেলার বাসিন্দা মনির আহমদ।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ফিরোজ খান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের ভেতর ও নিচে আটকে পড়া ১০ জনের বেশি যাত্রীকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের অনেকের হাত কিংবা পা কেটে গেছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পদুয়া ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দীন চৌধুরী জানান, হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন






