রিকশা ভেঙে নিঃস্ব ছৈয়দ নুর, না খেয়ে দিন কাটছে পরিবারে

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পরিচিত মুখ ছৈয়দ নুর—পেশায় একজন রিকশা চালক। প্রায় ২০ বছর ধরে রিকশা চালিয়ে তিনি পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তার উপার্জনের টাকাতেই চলত বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তানের সংসার। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই রিকশাটি।

কিন্তু হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় তার সেই একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। গত সোমবার দিবাগত রাতে উখিয়ার কোটবাজার এলাকায় এক শ্রমিককে গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া একটি গাড়িকে ধরার চেষ্টা চলছিল। এ সময় ছৈয়দ নুর তার রিকশাটি সড়কের মাঝখানে রেখে গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই একটি জিপ গাড়ি তার রিকশার ওপর দিয়ে উঠে গেলে সেটি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

রিকশা হারিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন ছৈয়দ নুর। উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় তিনি নিজেও না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং পরিবারকেও ঠিকমতো খাবার দিতে পারছেন না।

তিনি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম ডিগলিয়া এলাকার বাসিন্দা। দুই সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবার তার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হারিয়ে এখন তিনি দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন জায়গায় সাহায্যের জন্য ঘুরছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ছৈয়দ নুরের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা না হলে তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হবে।

এ বিষয়ে রিকশাচালক ছৈয়দ নুর বলেন, আমি গরিব মানুষ। ঋণের টাকায় এই রিকশাটাই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। ২০ বছর ধরে রিকশা চালিয়ে পরিবার চালিয়েছি। হঠাৎ করে সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমার হাতে কোনো কাজ নেই, ঘরে খাবারও নেই। বউ-বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়ান, তাহলে আবার নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করতে পারতাম।

এ বিষয়ে উখিয়া শাহপরী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। জিপ গাড়ির বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। এখনো গাড়ির মালিক শনাক্ত হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, মামলায় রিকশা ভাঙচুরের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত রিকশাচালক ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।

চাটগাঁ নিউজ/ইব্রাহিম/এমকেএন

Scroll to Top