মোহাম্মদ ইলিয়াছ: বান্দরবানের লামা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নে অবস্থিত মিরিঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার প্রায় শতাধিক শিশু। প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর অতিক্রম করলেও বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত বা সরকারীকরণ না হওয়ায়, চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার হয়ে ধুঁকছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টির ৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘ সাত বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। পরিচালনা কমিটির অবহেলা, নানা প্রশাসনিক জটিলতা এবং তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে শিক্ষকরা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনযাত্রার তাগিদে শিক্ষক সংকট দেখা দেওয়ায় ২০২৪ সাল থেকে বিদ্যালয়টির পাঠদান ও যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিগত ৩ বছর ধরে স্থবির হয়ে থাকা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারণে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে মিরিঞ্জা এলাকার ৫টি গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের কোমলমতি শিশু-কিশোররা।
এতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক সংকট, বেতন-ভাতা বন্ধ থাকা এবং ব্যবস্থাপনাগত নানা সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। অবশেষে ২০২৪ সালে পাঠদান একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং আঁধারে আলো ছড়াতে এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন স্থানীয় আনোয়ার আলীর স্ত্রী জায়তুল নেছা জুতি। তিনি বিদ্যালয়ের নামে প্রায় ৪০ শতক জমি দান করেন। তাঁর এই মহতী উদ্যোগে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় এটি পাহাড়ি-বাঙালি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখলেও উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি সহায়তার অভাবে বর্তমানে তা পরিত্যক্ত ও অবহেলিত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ঝরে পড়া এই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই দেশের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা উপজাতী সম্প্রদায়ের।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি চাকনাই ম্রো জানান, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টিকে টিকিয়ে রেখে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত এমপিওভুক্তকরণ জরুরি।
তবে লামা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, ‘বিদ্যালয়টি প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এটি পরিচালনা করার জন্য কার্যকর ও দায়িত্বশীল উদ্যোক্তার অভাবই মূলত বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ।’
এদিকে এলাকার সচেতন বাসিন্দাদের দাবি— দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদান, মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করে বিদ্যালয়টির সাবেক গৌরব ফিরিয়ে আনা হোক। অন্যথায় পাহাড়ি জনপদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত হবে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






